মঙ্গলবার, ১২:০৬ পূর্বাহ্ন, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, [bangla_date] , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।
শিরোনাম :
আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা গৌরনদীতে অনুমোদনহীন কসমেটিকস বিক্রি, দুই দোকানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা গৌরনদীতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নবগঠিত কমিটির ইউএনও কে ফুলেল শুভেচ্ছা গৌরনদীতে মানবিক সংগঠনের নবগঠিত কমিটির ইউএনওকে ফুলেল শুভেচ্ছা গৌরনদীতে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে ১৫ জন, গ্রেপ্তার ৭, পলাতক ২৫-৩০ গৌরনদী প্রেসক্লাবের ফ্যামিলি ডে-২০২৬ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ার করতেও পিছপা হবে না পুলিশ: আইজিপি ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, আঘাত হানবে যেসব এলাকায় ইরানের হুঁশিয়ারি: ফের যুদ্ধ শুরু হলে তেলের দাম ছাড়াতে পারে ১৫০ ডলার আ. লীগের সাত শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনে জমা

ওয়াশিংটনের পদক্ষেপের অপেক্ষা করবে ঢাকা

সময়ের কণ্ঠধ্বনি ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১০৮ বার পঠিত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সই হওয়া পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি কার্যকর করা নিয়ে আপাতত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। চুক্তিটি স্বাক্ষর হলেও এখনও দুই দেশের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন বা ‘রেটিফিকেশন’ সম্পন্ন হয়নি। এ অবস্থায় সরকার আগ বাড়িয়ে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে ওয়াশিংটনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করার কৌশল নিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতও একইÑ মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান, বিশেষ করে ‘পাল্টা শুল্ক’সংক্রান্ত আইনি জটিলতা স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত সময় নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করাই হবে বিচক্ষণ পদক্ষেপ।

সরকারি সূত্র বলছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি নিজস্ব আইনগত প্রক্রিয়া শেষ করে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে অবহিত করে, তখনই পরবর্তী সিদ্ধান্ত বিবেচনা করা হবে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিমকোর্ট ‘পাল্টা শুল্ক’ অবৈধ ঘোষণা করার পরও কী ভিত্তিতে তারা চুক্তি অনুমোদন করবেÑ সে প্রশ্ন এখনও স্পষ্ট নয়। একই সঙ্গে বৈশ্বিক বাণিজ্যনীতিতে দ্রুত পরিবর্তন, শুল্কহারের ওঠানামা এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ কৌশলগত ধৈর্য বজায় রাখতে চায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তাড়াহুড়ো করে প্রতিশ্রুতি দিলে দীর্ঘমেয়াদে তার অর্থনৈতিক ও নীতিগত প্রভাব পড়তে পারে। তাই চুক্তির শর্ত, সম্ভাব্য লাভ-ক্ষতি এবং আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়াই হবে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।

বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন জানান, পুরনো চুক্তি নিয়ে এখন আলোচনার চেষ্টা না করে বাংলাদেশের উচিত সময় নেওয়া। এ নিয়ে আলোচনার সময় এখনও আসেনি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, আপাতত বাংলাদেশ এ চুক্তি নিয়ে আগ বাড়িয়ে কিছু করবে না। বরং যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের অপেক্ষা করবে। তবে বসে থাকবে না বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশের অবস্থান কী হবে তা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পরামর্শ করেই ঠিক করবে সরকার। এ জন্য শিগগির রপ্তানিকারকদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ ছাড়াও অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।

রপ্তানিকারকরা জানিয়েছেন, বারবার শুল্ক পরিবর্তনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তারা অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছেন। বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যচুক্তি বাতিল বা সংশোধনের কথাও বলছেন তারা।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি সই করে বাংলাদেশ। চুক্তি অনুযায়ী উভয় পক্ষ তাদের নিজ নিজ আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে মর্মে লিখিত নোটিশ বিনিময়ের ৬০ দিন পর এটি কার্যকর হবে। তবে পারস্পরিক সম্মতিতে অন্য কোনো তারিখও নির্ধারণ করা যেতে পারে বলে চুক্তিতে বলা হয়েছে। আবার যে কোনো পক্ষ লিখিত নোটিশ দিয়ে চুক্তি বাতিল করতে পারবে। সে ক্ষেত্রে ৬০ দিন পর অথবা সম্মত অন্য তারিখে অবসান কার্যকর হবে।

চুক্তির আগে সমঝোতার মাধ্যমে বাংলাদেশের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়তি শুল্কহার ছিল ২০ শতাংশ, যা এখনও কার্যকর। চুক্তি কার্যকর হলে ১৯ শতাংশ হওয়ার কথা। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা ও কৃত্রিম তন্তু আমদানি করে তৈরি করা পোশাক দেশটিতে রপ্তানি করা হলে তাতে কোনো পাল্টা শুল্ক আরোপ না করার ঘোষণা দেওয়া ছিল। তবে এ সুবিধা পেতে দেশটির সঙ্গে বাণিজ্যে নানা ধরনের শর্ত মেনে নিয়েছে বাংলাদেশ।

চুক্তিতে নানা শর্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সামরিক-অসামরিক কেনাকাটা বাড়ানোসহ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য আমদানিতে শুল্ক ও অশুল্কে ব্যাপক ছাড়। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে অন্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের বিষয়টি রয়েছে। চুক্তিতে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একই সঙ্গে কিছু দেশ থেকে কমানোর অঙ্গীকার করেছে। চুক্তি প্রকাশিত হওয়ার পর অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের অনেকেই একে জনস্বার্থবিরোধী এবং দেশের জন্য ক্ষতিকর বলে আখ্যা দিয়েছেন।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের হওয়া ‘বাণিজ্যচুক্তি’ পুনর্বিবেচনা করতে নতুন সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সংগঠনটি বলছে, ‘চুক্তির বিষয়টি একটি নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়াই ছিল যুক্তিযুক্ত। তড়িঘড়ি করে নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট (এনডিএ) করে চুক্তি স্বাক্ষরের কারণে অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। নতুন সরকারকে চুক্তিটি এমনভাবে পুনর্বিবেচনা করতে হবে, যেন দুই দেশের জন্যই তা উইন-উইন হয়।’

এ বিষয়ে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ ছিল না। তারা যুক্তরাষ্ট্রপন্থি চুক্তি সই করেছে। এ চুক্তির কারণে আমরা বিস্মিত। আমরা বিচলিত। আমরা বারবার সরকারের কাছে জানতে চেয়েছি প্রাইভেট সেক্টরের জন্য করা এই ট্রেড ডিলে কী আছে। না জেনে আমরা কীভাবে সমর্থন দেব? তিনি বলেন, ‘মার্কিন প্রশাসনের নীতিতে দ্রুত পরিবর্তন আসছে। তাই কৌশলগতভাবে বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। চুক্তি বহাল থাকলে অবিলম্বে পুনরায় আলোচনায় বসে রি-নেগোশিয়েট করা উচিত। চুক্তিটি এমনভাবে পুনর্বিবেচনা করতে হবে, যেন দুই দেশের জন্যই তা উইন-উইন হয়। তিনি আরও বলেন, চুক্তিটি যদি বাদ হয়ে যায় সেটি বাংলাদেশের জন্য মঙ্গলজনক। আর চুক্তিটি বাদ না হয়, তবে নতুন সরকারকে বুঝেশুনে উদ্যোগ নিতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com