শনিবার, ০২:৪৯ অপরাহ্ন, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।
শিরোনাম :
‘পাতলী খাল’ পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নেইমারকে ছাড়াই বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে নামবে ব্রাজিল হরমুজে ফের উত্তেজনা, একাধিক ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি মার্কিন বাহিনীর ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন পরিকল্পনা, অভিবাসীদের পাঠানো হবে আফ্রিকায় বিশ্বকাপে টিকিটের চাহিদা ১০ গুণ বেশি, অথচ গ্যালারির অনেকটা ফাঁকা বগুড়ার চার উপজেলায় বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন উপহার, দরিদ্র পরিবারে আশার আলো জ্বালল বসুন্ধরা গ্রুপ বাজেট প্রতিক্রিয়া, বেসরকারি খাতে আস্থা ফেরানো জরুরি এফবিআইয়ের ড্রোন হ্যাকের দাবি, বিশ্বকাপে হামলার হুমকি ইরান-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর যুদ্ধ অবসানের চুক্তি হলে খুলে দেওয়া হবে হরমুজ প্রণালি: ইরান কক্সবাজারে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

পুরুষের একান্তই গোপন রোগ

সময়ের কণ্ঠধ্বনি ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৫৫ বার পঠিত

অনেক পুরুষই ক্লামাইডিয়া নামে একটি অত্যন্ত সাধারণ, কিন্তু কৌশলী যৌনবাহিত সংক্রমণে আক্রান্ত হন। অথচ এর বেশির ভাগই কোনো স্পষ্ট উপসর্গ অনুভব না করায় বিষয়টি দীর্ঘদিন অজান্তেই থেকে যায়। শরীরে কোনো বিরক্তিকর লক্ষণ না থাকলেও ক্লামাইডিয়া নিঃশব্দে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং অসুরক্ষিত যৌনসম্পর্কের মাধ্যমে যৌনসঙ্গিনীর শরীরে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। এমনকি গর্ভবতী নারীর দেহে সংক্রমণ থাকলে জন্মের পর নবজাতকের চোখ, শ্বাসনালি বা অন্যান্য অঙ্গে জটিলতা দেখা দিতে পারে। এ কারণে ক্লামাইডিয়াকে একটি গোপন রোগ বলা হয়, যা প্রকাশ্যে খুব একটা উপদ্রব না করলেও ভেতরে ভেতরে নানা ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।

ক্লামাইডিয়া ট্রাকোমাটিস নামের সূক্ষ্ম জীবাণুটি এ রোগের জন্য দায়ী। এটি ব্যাকটেরিয়ার মতো আচরণ করে এবং প্রধানত যৌনমিলনের সময় শারীরিক তরলের সংস্পর্শে একজনের শরীর থেকে আরেকজনের শরীরে পৌঁছে যায়। যৌনসঙ্গমের ধরন যাই হোক, যোনীপথ, মুখমেহন বা পায়ুপথ সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে যায়। পায়ুপথে অসুরক্ষিত যৌনাচার হলে মলদ্বারেও প্রদাহ ও সংক্রমণ সৃষ্টি করতে পারে।

পুরুষের ক্ষেত্রে ক্লামাইডিয়া সাধারণত মূত্রনালিকেই প্রথমে আক্রান্ত করে, যেখানে সংক্রমণের ফলে নলের ভেতরে জ্বালা, প্রদাহ এবং নিঃসরণের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ নল দিয়েই প্রস্রাব ও বীর্য শরীরের বাইরে আসে। তাই সংক্রমণ হলে দৈনন্দিন জীবনেও বিরক্তিকর অস্বস্তি তৈরি হয়। কখনও কখনও জীবাণুটি মূত্রনালি পেরিয়ে এপিডিডাইমিস পর্যন্ত চলে যায়। অণ্ডকোষের পাশে থাকা এ ক্ষুদ্র গ্রন্থিটি শুক্রাণুর পরিপক্বতা ও পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে সংক্রমণ হলে অণ্ডকোষে ব্যথা, ফুলে যাওয়া কিংবা ভারীভাব অনুভূত হতে পারে। সংক্রমণ প্রস্টেট গ্রন্থিতেও পৌঁছাতে পারে। ফলে প্রস্রাবের সময় জ্বালা, পিঠের নিচে ধকধক ব্যথা, যৌনমিলনের সময় অস্বস্তি বা মূত্রনালির মুখে নিঃসরণ দেখা দিতে পারে। তীব্র সংক্রমণে কখনও জ্বরও আসে, শরীর ভেঙে যায় এবং দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন হয়। পায়ুপথ আক্রান্ত হলে মলদ্বারের চারপাশে জ্বালাপোড়া, ব্যথা কিংবা পায়খানা করার সময় চাপ লাগার মতো অনুভূতি তৈরি হতে পারে।

ক্লামাইডিয়া নির্ণয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে তিনি মূত্রনালির মুখ থেকে সোয়াব সংগ্রহ করে পরীক্ষা করতে পারেন, প্রয়োজনে প্রস্রাব পরীক্ষা বা পায়ুপথের নিঃসরণও পরীক্ষা করতে পারেন। এসব পরীক্ষার মাধ্যমে শরীরে জীবাণুর উপস্থিতি শনাক্ত করা সম্ভব এবং উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক নির্ধারণ করা যায়। যদিও এপিডিডাইমিস বা প্রস্টেটের গভীর সংক্রমণে নির্দিষ্ট জীবাণু আলাদা করে পাওয়া কিছু ক্ষেত্রে কঠিন হতে পারে, তবু উপসর্গ ও ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে চিকিৎসা সফলভাবে দেওয়া যায়। সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে বেশির ভাগ ক্লামাইডিয়া সংক্রমণ দ্রুত সেরে ওঠে। সাধারণ মূত্রনালি সংক্রমণে সাত দিনের কোর্সই যথেষ্ট। কিছু ক্ষেত্রে একক মাত্রার অ্যান্টিবায়োটিকও ভালো কাজ করে। তবে প্রস্টেট গ্রন্থি আক্রান্ত হলে দুই থেকে চার সপ্তাহ পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। কারণ ওই অংশে ওষুধ পৌঁছাতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com