রবিবার, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।
শিরোনাম :
গৌরনদীতে সাংবাদিকদের জন্য এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং বিষয়ক প্রশিক্ষণের উদ্বোধন  প্রধানমন্ত্রীর মন খারাপ, দাবি নাহিদ ইসলামের গুণীজনদের জীবদ্দশায় সম্মান জানালে সমাজসেবায় উৎসাহ বাড়বে : মৎস্য ও কৃষিমন্ত্রী ‘আদ্-দ্বীন কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী ছাড়া কারও মধ‍্যে পরিবর্তনের ছাপ নেই : মঞ্জু অলিগার্কদের ধ্বংস করা বিএনপি সরকারের অন্যতম লক্ষ্য : মির্জা ফখরুল আসন্ন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক নিয়ে ইসরায়েল ‘খুবই উদ্বিগ্ন’ ‘নেইমার সার্কাস’ পেছনে ফেলে মরক্কোকে হারাতে কতোটা প্রস্তুত ব্রাজিল? ভারতের নতুন সেনাপ্রধান হচ্ছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

বাজেটের ভারসাম্য এখনও ঝুঁকিতে

সময়ের কণ্ঠধ্বনি ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪৪ বার পঠিত

কাঙ্ক্ষিত হারে রাজস্ব আয় করতে পারছে না জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর); খেলাপি ঋণের কারণে ব্যাংকিং খাতে ফিরছে না স্থিতিশীলতা। অন্যদিকে বৈদেশিক সহায়তা ও ঋণের মাত্রা কমছে; উল্টো বাড়ছে ঋণ পরিশোধের চাপ। উপরন্তু অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড অব্যাহতভাবে সংকুচিত হচ্ছে। সব মিলিয়ে বাজেটের ভারসাম্য এখনও ঝুঁকির মুখেই রয়েছে।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) জানিয়েছে, দুর্বল রাজস্ব আহরণ, আর্থিক খাতের ঝুঁকি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে এখনও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, চলতি বাজেটে রাজস্ব আয়ের উচ্চাভিলাসী লক্ষ্যমাত্রার পরও কর-জিডিপির অনুপাত ৮-৯ শতাংশের কম থাকবে। অথচ ভারতের কর ও জিডিপির অনুপাত ১৮ শতাংশ। আমাদেরও সে অবস্থানে যাওয়া জরুরি। এ জন্য কর ব্যবস্থার অটোমেশনে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা। অন্যথায় বছর শেষে আবারও বিশাল অঙ্কের রাজস্ব ঘাটতি তৈরি হবে, যা মূলত বাজেটের ভারসাম্যকে ঝুঁকির দিকে ঠেলে দেবে বলে মনে করছেন তাঁরা।

অর্থ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, আগের ধারাবাহিকতায় সরকার কৃচ্ছতাসাধনের পথ অনুসরণ করছে। আগের অর্থবছরের চেয়ে চলতি অর্থবছরে ৭ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে বাজেট দিয়েছে অন্তর্র্বর্তী সরকার। এরপর বাজেটের আকার আরও ২০ হাজার কোটি টাকা কমানোর প্রাক্কলন করেছে সরকার। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি কমাতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর পরও মূল্যস্ফীতির পারদ ঊর্ধ্বমুখী, কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না। অর্থনীতি ও প্রশাসনের নানা সংস্কার কর্মসূচির কারণে অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে রাজস্ব আদায় কিছুটা বেড়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়নও কিছুটা বেড়েছে। যদিও বৈদেশিক সহায়তা ও ঋণ কমেছে। তবে মূল্যস্ফীতির চাপ কমিয়ে আনতে পারেনি সরকার। অক্টোবর শেষে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৮ দশমিক ১৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ভরা মৌসুমেও শাকসবজি, মাছ-মাংস, চাল, ডাল, পেঁয়াজ, রসুনের দাম আকাশচুম্বী।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন আমাদের সময়কে বলেন, বছর শেষে মূল্যস্ফীতির চাপ কাক্সিক্ষত হারে কমিয়ে আনা সরকারের জন্য কঠিন হবে। মূল্যস্ফীতি কমার প্রবণতায় ছিল। কিন্তু এখন তা দুর্বল হয়ে গেছে। ফলে সামনে মূল্যস্ফীতি বাড়বে, সরকারি ব্যয় বাড়বে। আবার নির্বাচন কেন্দ্র করে ব্যক্তি খাতেও ব্যয় বাড়বে। ফলে মূল্যস্ফীতি কমানো সহজ নয়। সামগ্রিক বাজেট পরিস্থিতি এখনও ভারসাম্যহীতার ঝুঁকিতে রয়েছে।

জানা গেছে, গত অর্থবছরে ১ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে। এর প্রভাব চলতি অর্থবছরেও রয়েছে। অন্যদিকে সরকার এডিপি থেকে অনেকগুলো মেগা প্রকল্প বাদ দেওয়ায় অর্থের চাহিদা কমেছে। এতে করে নিয়ম মাফিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে কিছুটা গতি পেয়েছে। এডিপি থেকে মেগা প্রকল্পগুলোকে বাদ দেওয়ায় ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার প্রবণতাও কমেছে।

এদিকে ঋণনির্ভর উন্নয়নের চাপ এখন অর্থনীতিতে স্পষ্ট হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বিদেশি ঋণ প্রাপ্তির চেয়ে প্রায় ১৩ কোটি ডলার বেশি পরিশোধ করতে হয়েছে। ফলে নতুন ঋণ দিয়ে পুরনো ঋণ পরিশোধের প্রবণতা বেড়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকেও ঋণ পরিশোধ করতে হচ্ছে সরকারকে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা যায়, অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বৈদেশিক ঋণ ছাড় হয়েছে ১১৪ কোটি ৮৫ লাখ ডলার। কিন্তু এ সময়ে পরিশোধ করা হয়েছে ১২৭ কোটি ৯৯ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে পরিশোধ করা হয়েছিল ১১২ কোটি ডলার। সে তুলনায় এবারের পরিশোধ বেড়েছে ১৫ কোটি ৩৩ লাখ ডলার, যার মধ্যে শুধু আসল পরিশোধই বেড়েছে ১৩ কোটি ডলার।

আইএমএফ আরও জানিয়েছে, রাজস্ব ও আর্থিক খাতের সমস্যা মোকাবিলায় সাহসী নীতি গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি, যাতে টেকসই আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করে শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার করা যায়। ঝুঁকি এখনও প্রবল। বিশেষ করে, নীতি প্রণয়নে যদি বিলম্ব হয় কিংবা অপর্যাপ্ত নীতি গ্রহণ করা হয়, তাহলে ঝুঁকি থাকবে। আইএমএফ মনে করে, মধ্য মেয়াদে শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করা, যুব বেকারত্ব হ্রাস এবং অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে ব্যাপক কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন, যা বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি সম্ভাবনাকে বাড়াবে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করবে।

আইএমএফ আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকার সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রশংসনীয় অগ্রগতি করেছে। তবে দুর্বল কর রাজস্ব এবং আর্থিক খাতের মূলধন ঘাটতির কারণে এখনও আর্থিক চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ হয়েছে। কারণ, গত বছর জুলাই আন্দোলন এবং অন্যান্য অনিশ্চয়তায় উৎপাদনে বিঘ্ন হয়। অন্যদিক মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্ক থেকে এক অঙ্কে (৮ শতাংশ) নেমেছে। তবে মূল্যস্ফীতি এখনও উচ্চ রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com