বৃহস্পতিবার দুপুরে বরিশালের গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে জরুরি বিভাগের সামনে বেসরকারি এম্বুলেন্স চালকদের দুটি গ্রুপের হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষে অন্তত ৭ জন আহত হয়েছে। গুরুত্বর আহত ২জনকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে পুরো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জুড়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ঘন্টা খানেক চিকিৎসা সেবা বন্ধ থাকে। একইসময় হৃদরোগে আক্রান্ত এক রোগী সেখানে মারা যান। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির জরুরি বিভাগের কর্মরত চিকিৎসকদের দাবি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার আগেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ওই রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
হামলার শিকার অ্যাম্বুলেন্স চালক সাইদ সিকদার জানান, তার বাবা সম্প্রতি একটি নতুন এম্বুলেন্স কিনে তাকে চালানোর দায়িত্ব দেন। ওই অ্যাম্বুলেন্সটি হাসপাতাল এলাকায় রাখলে বেশিরভাগ রোগী ওই এম্বুলেন্সটি ভাড়া নেয়। অপর এম্বুলেন্স এর মালিক জাবেদ সেলিম এটি মেনে নিতে পারছিল না। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাঈদ শিকদার তার অ্যাম্বুলেন্সে একজন রোগী তুলে বরিশালের উদ্দেশ্যে রওনা দিলে অপর এম্বুলেন্স চালক জাবেদ সেলিম এসে বাধা দেয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে জাবেদ সেলিম সাঈদকে চড় মারে। সাঈদ এর প্রতিবাদ করলে জাবেদ সেলিম তার অ্যাম্বুলেন্স এর ভেতর থেকে একটি লোহার জিআই পাইপ এনে সাঈদ কে বেধড়ক পেটায়। এতে সাঈদীর ডান হাত ভেঙে যায় এবং ক্ষত হয়ে রক্ত ঝরে। খবর পেয়ে সাঈদের স্বজনরা এগিয়ে এলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে উভয় পক্ষের সজনরা মুখোমুখি অবস্থান নেয়। এক পর্যায়ে দু পক্ষই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় পুরো স্বাস্থ্য কমপ্লিট জুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
তখন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা ভয়ে দ্বিগবিদ্বিগ ছোটা ছুটি করেন। ফলে প্রায় ঘন্টা খানেক ধরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটিত চিকিৎসা সেবা বন্ধ থাকে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা হাফিজুর রহমান (৬০) নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার দিয়াশুর গ্রামের নুর মোহাম্মদ আকনের ছেলে।
তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের এ দাবি অস্বীকার করেছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে কর্মরত চিকিৎসকগণ। তাদের দাবি সজনরা রোগীকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার আগেই সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।
সাঈদের উপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে অপর আহত এম্বুলেন্স চালক জাবেদ সেলিম বলেন, আওয়ামী লীগের লোকেরা আমাকে মেরেছে এটি লিখে দেন। হামলায় গুরুতর আহত সাঈদ শিকদার (২২) ও জাবেদ সেলিম (৪৫)কে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় এম্বুলেন্স চালক জাবেদ সেলিমের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণসহ বিভিন্ন সময় চিকিৎসকদেরকে নানা রকম হুমকি ধমকি দেয়ার অভিযোগ করেছেন গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. শাহতা জারাব সালেহিন। তিনি বলেন, হাসপাতালের মধ্যে হামলা ও সংঘর্ষ চলাকালে তাৎক্ষনিক আমি বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করেছি। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন।