সোমবার, ১১:৪২ পূর্বাহ্ন, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, [bangla_date] , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।

ট্রেন পরিচালনায় বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ভরসা

সময়ের কণ্ঠধ্বনি ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ৯ বার পঠিত

বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্রেনে চড়ার জন্য যাত্রীর অভাব নেই। অথচ লোকসান গুনতে হচ্ছে। এর কারণ হিসেবে জনবল সংকটকে দুষছে কর্তৃপক্ষ। এ যুক্তি দেখিয়ে আরও ১৭টি ট্রেন ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এসব ট্রেনের দরপত্র প্রক্রিয়া চলছে। সর্বশেষ পূর্বাঞ্চলের ৬টি ট্রেন ইজারার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

ট্রেনগুলো হচ্ছে-ময়মনসিংহ-ঝারিয়াঝাঞ্জাইল-ময়মনসিংহ রুটের ঝারিয়া লোকাল, ঢাকা-জয়দেবপুর-ঢাকা রুটের জয়দেবপুর কমিউটার, ঢাকা-ভৈরববাজার-ঢাকা রুটের নরসিংদী কমিউটার, নোয়াখালী-লাকসাম-নোয়াখালী রুটের সমতট এক্সপ্রেস, নোয়াখালী-ঢাকা-নোয়াখালী রুটের নোয়াখালী মেইল ও চট্টগ্রাম-নাজিরহাট-চট্টগ্রাম রুটের নাজিরহাট লোকাল ট্রেন।

এর আগে আরও ১১টি ট্রেন ইজারায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছিল রেলপথ মন্ত্রণালয়। ট্রেনগুলো হচ্ছেÑরাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রহনপুর-রাজশাহী রুটের মল্লিকা, পূর্ণতব্য, অপরাজিতা কমিউটার, রাজবাড়ী-ভাঙ্গা-কালখালী-ভাটিয়াপাড়া ঘাট-রাজবাড়ী রুটের রাজবাড়ী ও ভাটিয়াপাড়া মেইল, পার্বতীপুর-রমান-কুড়িগ্রাম-বুড়িমারী-পার্বতীপুর রুটের লোকাল, পার্বতীপুর-লালমনিরহাট-বুড়িমারী-পার্বতীপুর রুটের লোকাল, বোনারপাড়া-পার্বতীপুর-বোনারপাড়া

রুটের রামসাগর মেইল ও পার্বতীপুর-লালমনিরহাট-বুড়িমারী-পার্বতীপুর রুটের কমিউটার ট্রেন। ‘অলাভজনক’ এসব ট্রেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন আমাদের সময়কে বলেন, কিছু কমিউটার, মেইল ও লোকাল ট্রেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সে অনুযায়ী প্রক্রিয়া চলছে।

জানা গেছে, জনবল সংকটের কারণে বাংলাদেশ রেলওয়ে ১৯৯৭ সাল থেকে বেসরকারি খাতের সঙ্গে কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে মোট ৩৭টি ট্রেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। এর আগে ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে বেসরকারিভাবে পরিচালিত ২৪ ট্রেনের লিজ বাতিল করে রেলপথ মন্ত্রণালয়। ওই ২৪ ট্রেন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সালাউদ্দিন রিপন ও তার পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন বিভিন্ন কোম্পানি দ্বারা পরিচালিত হয়। তারও আগে বিভিন্ন জটিলতার কারণে ২০১৯ সালে বেসরকারিভাবে ট্রেন পরিচালনার সিদ্ধান্ত বাতিল হয়েছে।

সূত্র জানায়, ইজারায় চলা ট্রেনে সরকারিভাবে ট্রেনচালক, গার্ড ও জ্বালানি প্রদান করা হচ্ছে। ইজারাদাররা শুধু লোকবল দিয়ে যাত্রী পরিবহন করছে। রেলওয়ের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে ১৩ জোড়া ট্রেন পরিচালনায় বার্ষিক আয় ছিল ২১ কোটি ১৬ লাখ ৯০ হাজার ৭০৪ টাকা। বেসরকারি পরিচালনায় বার্ষিক আয় হয় ৫৮ কোটি ২৭ লাখ ১৩ হাজার ২৬ টাকা। বর্তমানে ১৩ জোড়া ট্রেন ইজারায় চলছে, নতুন করে আরও ১৭ জোড়া ওই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে। অর্থাৎ ৩০ জোড়া ট্রেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করবে।

রেল বলছে, ইজারায় ৬০টি ট্রেন পরিচালনায় বছরে রেল আয় করবে প্রায় শতকোটি টাকা। কম ভাড়া, উচ্চ পরিচালন ব্যয় ও টিকিট ফাঁকির কারণে দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি ব্যবস্থাপনায় চলা লোকাল, মেইল ও কমিউটার ট্রেনগুলো ব্যাপক লোকসান গুনছে। অভিযোগ রয়েছে, কেউ কেউ কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহ না করে ট্রেনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের অর্থ দিয়ে যাতায়াত করে। আর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় লাভ নিজেরা পরিচালনা করলে লোকসান, এর অন্যতম কারণ তদারকির অভাব ও অনিয়ম।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com