খসড়া সংশোধনী অনুযায়ী, সাইবার পরিসরে গুজব বা অপতথ্য প্রকাশ কিংবা প্রচারকে নতুন অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড, ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া ২৫ নম্বর ধারায় মানহানি ও হেয়প্রতিপন্ন-সংক্রান্ত অপরাধের বিধান আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে। সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী, অডিও, ভিডিও, স্থিরচিত্র, গ্রাফিকস বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি কোনো কনটেন্টের মাধ্যমে কারো মানহানি বা হেয়প্রতিপন্ন করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
সংশোধিত আইনের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সরকারের ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্যান্য সংস্থাকে যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এ ক্ষেত্রে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) দায়িত্ব পেতে পারে।
সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ভুয়া ভিডিও, অডিও ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে অপপ্রচার রোধ করতেই আইন আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে সরকারের ভেতরেও এ সংশোধনী নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এক পক্ষ আইন কঠোর করার পক্ষে থাকলেও অন্য পক্ষের আশঙ্কা, এতে সমালোচনা বাড়তে পারে, অপপ্রয়োগের অভিযোগ উঠতে পারে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে।
২০১৮ সালে প্রণীত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার আইনটি বাতিল করে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ জারি করে। পরে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল সংসদে সাইবার সুরক্ষা আইন পাস হয়। সেই আইন কার্যকরের তিন মাসের মধ্যেই নতুন করে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।