জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রায় দুইশ কোটি টাকার জমি ব্যক্তি মালিকানায় অবমুক্ত করার আদেশ দিয়েছে ঢাকার জেলা প্রশাসন। রাজধানীর মিরপুরের সেনপাড়া পর্বতা মৌজায় অবমুক্ত করা এ জমির পরিমাণ ৮৯ শতাংশ। এর মধ্যে ৪০ শতাংশ গৃহায়নের অধিগ্রহণ করা গেজেটভুক্ত সম্পত্তি। বাকি ৪০ শতাংশ জমি গৃহায়নের হুকমদখল সম্পত্তি। এসব সম্পত্তিতে কলেজ, মন্দিরসহ নানা স্থাপনা রয়েছে। আর বাকি ৯ শতাংশে রয়েছে কবরস্থান। গৃহায়ন কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে ২০২৪ সালের ১১ মার্চ এ সম্পত্তি অবমুক্ত করে আদেশ দেয় ঢাকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) পারভেজ চৌধুরী। এমনকি অবমুক্তির আদেশের পর যাতে তা সহজেই অবৈধ দখলে নেওয়ার চেষ্টাকারী চক্রকে বুঝিয়ে দিতে পারে, সে লক্ষ্যে গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের এ সম্পত্তি-সংক্রান্ত মূল নথি ও রেকর্ড গায়েব করা হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, জমিটি দখলে নেওয়ার পেছনে একটি প্রভাবশালী চক্র জড়িত। পুরো জমিটি গ্রাস করার পেছনে স্থানীয় ‘সাইফুল চক্রের’ নেতৃত্বে ঢাকা জেলা প্রশাসন ও জাতীয় গৃহায়নের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশ রয়েছে। তবে অবমুক্তির আদেশ নিয়ে আবেদন জানালেও এখনো সম্পত্তিটি ব্যক্তি মালিকানায় বুঝিয়ে দেয়নি গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ; বরং এই অবমুক্তির আদেশ যাচাইয়ের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নথি বলছে, মিরপুর সিএস ৫৪৬ নম্বর দাগের (ষোলো আনায়) ৫ দশমিক ১২ একর জমির মধ্যে কবরস্থানের ৯ শতাংশ বাদে ৫ দশমিক ০৩ একর জমি হুকুমদখল করা হয়। এর মধ্যে ১৮ জানুয়ারি ১৯৮০ তারিখে ৪ দশমিক ৬৩ একর ভূমি অধিগ্রহণ করে জাতীয় গৃহায়নের নামে গেজেট প্রকাশ করে সরকার। এই গেজেটে অবমুক্তির সুযোগ-সংক্রান্ত কোনো তথ্য নেই। বাকি ৪৯ শতাংশ হুকুমদখল বহির্ভূত হিসেবে থেকে যায়। এর মধ্যে ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পারভেজ চৌধুরী ১১ মার্চ ২০২৪ তারিখে সরকারি গেজেটভুক্ত ৪০ শতাংশ জমি অবমুক্ত করে চিঠি জারি করেন। অবমুক্তির এ চিঠির পর গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ জমির নথি তলব করলে জানতে পারে যে, তা গায়েব হয়ে গেছে।
সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি, আদালতের রায়, গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন সময়ের চিঠিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, একই জমির অধিগ্রহণের পরিমাণ, গেজেটভুক্ত ভূমির আয়তন, অবমুক্তির ভিত্তি এবং অধিগ্রহণ-বহির্ভূত জমির পরিমাণ নিয়ে সরকারি নথিতেই পরস্পরবিরোধী তথ্য রয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে একটি প্রভাবশালী মহল সরকারের প্রায় ২০০ কোটি টাকার জমি ব্যক্তি মালিকানায় নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে ঢাকা জেলা প্রশাসন ওই জমি অবমুক্ত করে চিঠি দিলেও অবমুক্তির যৌক্তিকতা যাচাইয়ের জন্য জমিটির মূল মালিক গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বরাবর কোনো চিঠি পাঠায়নি। নিয়ম অনুযায়ী, অধিগ্রহণকৃত ও জনস্বার্থে ব্যবহৃত জমি প্রত্যাশী সংস্থার ছাড়পত্র ছাড়া এডিসি অবমুক্ত করতে পারেন না। কিন্তু সেসব সংস্থা গৃহায়নকে না জানিয়েই এটি অবমুক্ত করেছে। তবে অবমুক্তির আদেশের পর সংশ্লিষ্ট চক্রটি গৃহায়নের কাছে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার যোগাযোগ করে। তখন গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ থেকেও তড়িঘড়ি করে এ বিষয়ে বোর্ড মিটিং করেছে। একই সঙ্গে অবমুক্ত করার বিষয়টি অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পারভেজ চৌধুরী গতকাল কালবেলাকে বলেন, ‘মন্ত্রণালয় নির্দেশনা দিয়েছে তাই অবুমক্ত করেছি। সিদ্ধান্ত আসছে ওপরে থেকে সে অনুযায়ী কাজ করেছি।’ জানতে চাওয়া হলে ঢাকার বর্তমান জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা খানম কালবেলাকে বলেন, ‘সরকারের এক প্রতিষ্ঠানের জমি অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে অবমুক্ত করতে হলে তাদের জানাতে হয়। প্রত্যাশী সংস্থাকে না জানানো বিষয়ে তদন্ত করা হবে। প্রমাণ পেলে তার (সাবেক এডিসি পারভেজ) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জাতীয় গৃহায়নের চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগম কালবেলাকে বলেন, মিরপুরের জমির বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কমিটি করা হয়েছে। এখনো জমি হস্তান্তর করা হয়নি। কমিটি বিষয়টি তদন্ত করে দেখবে। ঢাকা জেলা প্রশাসনের কার্যালয় থেকে গৃহায়নের জমি অবমুক্তি করার চিঠি জারি করা হয়েছে। কিন্তু তারা গৃহায়নকে জানায়নি। আমার মনে হয় অবমুক্ত করার আগে তাদের উচিত ছিল গৃহায়নকে জানানো। তিনি আরও বলেন, আমি মানুষকে দ্রুত সময়ের মধ্যে সঠিক সেবা দিতে চাই, হয়রানি নয়। সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে বলা হয়েছে দ্রুত কাজ শেষ করতে হবে। এ অফিসে একাধিক সিন্ডিকেট চক্র আছে। যার কারণে অবৈধ নথি (ভুয়া) তৈরি করতে সময় লাগে না। কিন্তু ঘুষ না দিলে বৈধ কাজও করতে চায় না। আমি ইঞ্জিনিয়ারসহ সবাইকে বলে দিয়েছি কোনো কাজের জন্য কমিশন নেওয়া যাবে না। এগুলো বন্ধ করতে হবে। প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা গেছে, অবমুক্তি প্রত্যাশীরা হলেন নুরুণ নেছা, আনোয়ারা বেগম, মনোয়ারা বেগম, রাজিয়া বেগম, নাসিমা বেগম ও সেলিনা আক্তার। তাদের পক্ষে সাইফুল ইসলাম খোকন নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি এক মন্ত্রীর প্রভাব খাটিয়ে ডিসি অফিস ও গৃহায়নের মাধ্যমে এই সরকারি জমি হস্তান্তরের জন্য অবৈধ চাপ দিচ্ছেন। নুরুণ নেছা গং উক্ত দাগের ৫ দশমিক ১২ একর জমির মধ্যে কবরস্থানসহ ৮৯ শতাংশ জমি পৈতৃক দাবি করে তা অবমুক্ত করার জন্য গৃহায়নকে বিবাদী করে মামলা করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর যুগ্ম জেলা জজ আদালত গৃহায়নের পক্ষে রায় দেন। ২০২৩ সালে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদ অভিযান শুরু করলে জমির ব্যক্তি মালিকানা দাবিদাররা উচ্চ আদালতে গিয়ে স্থগিতাদেশ নেন। মামলাটি বিচারাধীন থাকার পরও সরকারি জমি অবমুক্তির মাধ্যমে ব্যক্তি মালিকানায় দেওয়ার জন্য জোর চেষ্টা চলছে।
তা ছাড়া, ২০২২ সালে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা তামান্ন আক্তার শারমিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়, ১৯৮০ সালের ১৮ জানুয়ারি প্রকাশিত গেজেট বিজ্ঞপ্তি পর্যালোচনায় দেখা যায়, নালিশি দাগের ৪ দশমিক ৬৩ একর ভূমির গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়া অত্র এলএ কেসে অন্য কোনো গেজেট প্রকাশিত হয়নি। এরপর ২০২৪ সালের ১১ মার্চ ৪০ শতাংশ জমি অবমুক্ত করে ডিসি কার্যালয়। ২০২৫ সালে অবমুক্তি প্রত্যাশী দাবিদারদের মাধ্যমেই এ অবমুক্তি গেজেটের কথা জানতে পারে গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। নিয়মবহির্ভূতভাবে ঢাকা জেলা প্রশাসকের অবমুক্তির চিঠি, অযৌক্তিকভাবে গৃহায়নের বোর্ড মিটিংয়ে তা উত্থাপন এবং কর্তৃপক্ষের নমনীয়তার কারণে গেজেটভুক্ত সম্পত্তির মধ্যে অবমুক্তকরা ৪০ শতাংশসহ মোট ৮৯ শতাংশ জমির দাবির রহস্য নিয়ে খোদ গৃহায়নের কর্মকর্তারাই প্রশ্ন তুলছেন।
সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, গেজেটের বাইরে ৪০ শতাংশ, গেজেটের ভেতর থেকে ৪০ শতাংশ এবং কবরস্থানের ৯ শতাংশ অবমুক্ত দেখিয়ে মোট ৮৯ শতাংশ জমির দাবি করছেন প্রত্যাশী মালিকরা। এ জমির সীমানা চিহ্নিত করতে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে গৃহায়ন। এবং তড়িঘড়ি করে মাত্র তিন দিন সময় বেঁধে দেওয়া হয়। পূর্বে কোনো যাচাই-বাছাই না থাকায় ৩৫ দিনেও কাজ শেষ করতে না পারায় আইন কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ দেয় গৃহায়ন। তবে গৃহায়নের আইন কর্মকর্তার লিখিত জবাবে বলা হয়েছে, প্রকৃত অধিগ্রহণ যদি ৫ দশমিক ০৩ একর হয়ে থাকে, তাহলে অধিগ্রহণ-বহির্ভূত জমি থাকার কথা মাত্র ৯ শতাংশ। সে হিসাবে ৪৯ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ-বহির্ভূত দেখানোর কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই। এলএ কেসের অর্পণ ও গ্রহণপত্র অনুযায়ী পুরো ৫ দশমিক ১২ একর জমিই অধিগ্রহণ করা হয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা প্রয়োজন। রিট পিটিশন নম্বর ২৭৪৮/২০২৩-এর মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্ট এখানে স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। ৮৯ শতাংশ জমির সীমানা নির্ধারণে গঠিত কমিটির সদস্য ও গৃহায়নের আইন কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান নথিপত্র যাচাই ছাড়া প্রতিবেদন দিতে অস্বীকৃতি জানান। জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি ছাড়া এবং প্রকৃত অধিগ্রহণের পরিমাণ নিশ্চিত না হয়ে পরিমাপ করা হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে—এ যুক্তিতে তিনি তিন মাস সময় চেয়ে আবেদন করলে তাকে ঢাকার বাইরে আন্তঃমন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়।
জাতীয় গৃহায়নের বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্লটগুলোর বরাদ্দের নথি যাচাই করতে গিয়ে রেকর্ড কিপার জানান, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ও রেকর্ড খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে ওই নথি না থাকার অজুহাত দেখিয়ে ১৯৭৮ সালের বরাদ্দ, বাস্তব দখল এবং লিজ রেজিস্ট্রিকৃত প্লট বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ লিজ রেজিস্ট্রেশন ও ভূমি শাখার নথি এভাবে গায়েব হওয়ার পেছনে একটি সিন্ডিকেট চক্র দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করে কাজ করছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
কালবেলার অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, জালজালিয়াতির মাধ্যমে পুরোনো বাস্তব দখল রেজিস্টারে যেখানে কারিমা খাতুনের নাম ছিল, সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সেখানে রোকেয়া খাতুনের নাম যুক্ত করা হয়েছে। একইভাবে ২-এফ ব্লকের, অ্যাভিনিউ-১-এর ২৩ নম্বর প্লটের প্রকৃত বরাদ্দগ্রহীতার নাম পরিবর্তনেরও অভিযোগ রয়েছে। অ্যাভিনিউ-২-এর ১ নম্বর প্লটের প্রকৃত মালিক (মৃত) করিমা খাতুন গংয়ের বদলে রোকেয়া খাতুন এবং অ্যাভিনিউ-২-এর ২ নম্বর প্লটের প্রকৃত বরাদ্দগ্রহীতা শহিদুল্লাহ গংয়ের বদলে ফৌজি আলীর নাম বাস্তব দখল রেজিস্টারে দেখানো হয়েছে। অথচ ১ নম্বর প্লটের ২০২৪ সাল পর্যন্ত হালনাগাদ সব বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। রাস্তা-সংলগ্ন এই ১ নম্বর প্লটটি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে গৃহায়নের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর মাধ্যমে ভূমি শাখা থেকে মূল ফাইলটি গায়েব করে দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, ফৌজি আলীর প্রকৃত মালিকানা মূলত একই সেকশন ও ব্লকের অ্যাভিনিউ-১ এর ২৩ নম্বর প্লটে। এ ছাড়া ২-এফ ব্লকের, অ্যাভিনিউ-২-এর ২ নম্বর প্লটেও দ্বৈত ব্যবহার দেখিয়ে প্রকৃত বরাদ্দগ্রহীতার তথ্য গোপন করা হয়েছে। নথিতে ত্রিপক্ষীয় জরিপের কথা বলা হলেও সংশ্লিষ্ট কাগজে জেলা প্রশাসনের জরিপ কর্মকর্তার কোনো স্বাক্ষর নেই। ফলে বাস্তব দখল রেজিস্টারে কারা জালজালিয়াতির মাধ্যমে এ নাম পরিবর্তন করল, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে একাধিক প্লট বরাদ্দ পাওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন কালবেলার প্রতিবেদক। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মিরপুর সেকশন-২, ব্লক-এফ, অ্যাভিনিউ-২, গ্রুপভিত্তিক প্লট নং-১-এর মালিক সিফাত ইউনুস লেলিন কালবেলাকে বলেন, নির্ধারিত হারে রাজস্ব দেওয়ার পর গৃহায়ন আমাদের নামে প্লট বরাদ্দ দিয়েছে। আমাদের কাছে সব ডকুমেন্ট আছে। কিন্তু এত বছর পর সেই জমির গেজেট থেকে অবমুক্তি করে ব্যক্তি মালিকানায় জমি দেওয়া সম্পূর্ণ জালিয়াতি। কারণ আমরাও সরকারকে টাকা দিয়েছি, সরকার আমাদের প্লট দিয়েছে। আমাদের বৈধ জমি অবৈধভাবে অন্য ব্যক্তির মালিকানায় অন্যায়। আমরা আদালতে যাব।
জাতীয় গৃহায়নের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু হোরায়রা একাধিক চিঠিতে অধিগ্রহণকৃত জমির পরিমাণ নিয়ে অসংগতির বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেন—জেলা প্রশাসন, গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ এবং দাবিদারদের উপস্থিতিতে যৌথ জরিপ ছাড়া কোনোভাবেই সীমানা নির্ধারণ করা উচিত হবে না। অভিযোগ রয়েছে, অবমুক্তির দাবি করা ওই এলাকায় গ্রুপ প্লট বেশি। মূলত ছয়টি প্লট থাকার কথা থাকলেও পরবর্তী সময়ে জালিয়াতি করে সেখানে ১৪টি প্লট দেখানো হয়েছে। প্রদর্শিত নকশায় রাস্তা বাদ দিয়ে পরিকল্পিত প্লটের ভেতরেই ৮৯ শতাংশ জমির অবস্থান দেখানো হয়েছে, যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত ও প্রশ্নবিদ্ধ। বর্তমানে এ জমিতে রাস্তা, কলেজ, মন্দির, দোকান এবং বহু বছর ধরে ব্যবহৃত আবাসিক প্লট রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জনগুরুত্বপূর্ণ এসব স্থাপনা সরিয়ে ব্যক্তি মালিকানায় জমি হস্তান্তরের এ উদ্যোগ সম্পূর্ণ জনস্বার্থবিরোধী। এ বিষয়ে গেজেটভুক্ত জমির দাবিদার সাইফুল ইসলাম খোকন কালবেলাকে বলেন, ‘মিরপুরে কবরস্থানসহ সব জমি আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি। সরকার (গৃহায়ন) এগুলো অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছিল, আমরা এখন সেই জমি ফেরত নিচ্ছি।’