বুধবার, ০৩:২৪ অপরাহ্ন, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।

আটলান্টায় ইতিহাসের আগুন

সময়ের কণ্ঠধ্বনি ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬
  • ৬ বার পঠিত

চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ফুটবল ইতিহাসের পাতায় জমে থাকা এক মহারণ আবারও ফিরে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার সবুজ গালিচায় এবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড দুই ফুটবল পরাশক্তি, দুই গৌরবময় ঐতিহ্য, দুই ভিন্ন দর্শনের সংঘর্ষ। অতীতের রক্তগরম স্মৃতি, ফকল্যান্ড যুদ্ধ ডিয়োগো ম্যারাডোনা কিংবদন্তি, আর নতুন প্রজন্মের তারকাদের স্বপ্নÑ সবকিছু মিলিয়ে এটি কেবল একটি ম্যাচ নয়, বরং ইতিহাসের আগুনে লেখা হতে চলা আরেকটি মহাকাব্য। লিওনেল মেসি কিংবা হ্যারি কেইন যার দল জিতবে, তার জন্য খুলে যাবে বিশ্বকাপের ফাইনালের দরজা; আর পরাজিত দলকে বয়ে বেড়াতে হবে অপূর্ণ স্বপ্নের দীর্ঘশ্বাস।

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের এই লড়াই শুধু দুই দলের নয়, এটি দুই ফুটবল দর্শন, দুই প্রজন্মের স্বপ্ন আর ইতিহাসের দীর্ঘ প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন অধ্যায়। একদিকে নিখুঁত পাসিং, ক্ষিপ্র আক্রমণ আর ট্যাঙ্গোর ছন্দে এগিয়ে চলা আলবিসেলেস্তেরা; অন্যদিকে গতি, শক্তি ও শৃঙ্খলার মিশেলে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলা থ্রি লায়ন্স। তাই আটলান্টার মঞ্চে নব্বই মিনিট জুড়েই জমতে পারে কৌশল, আবেগ আর প্রতিভার এক অনন্য মহারণ। আর্জেন্টিনা এই বিশ্বকাপে আক্রমণভাগে

দারুণ ধারাবাহিক। নকআউট পর্বে মিসর ও সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসের চূড়ায় রয়েছে তারা। অন্যদিকে ইংল্যান্ডও কম শক্তিশালী নয়। মেক্সিকো ও নরওয়ের মতো কঠিন প্রতিপক্ষকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে এসেছে ইংলিশরা। ফলে দুই দলের আত্মবিশ্বাসই এখন তুঙ্গে, আর সামান্য একটি ভুলই নির্ধারণ করে দিতে পারে ম্যাচের ভাগ্য।

তবে এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ইতিহাসের প্রতিদ্বন্দ্বিতা। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড মানেই আবেগ, বিতর্ক, রোমাঞ্চ আর অবিস্মরণীয় সব স্মৃতি। সেই পুরনো অধ্যায়ের সঙ্গে এবার যুক্ত হচ্ছে নতুন প্রজন্মের তারকাদের লড়াই। কেউ চাইবে ঐতিহ্য ধরে রাখতে, কেউ লিখতে চাইবে নতুন ইতিহাস। তাই আটলান্টার রাত শুধু একটি সেমিফাইনাল নয়, এটি ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এক মহাকাব্যিক উৎসবÑ যেখানে একটি বাঁশি, একটি গোল কিংবা একটি মুহূর্তই বদলে দিতে পারে বিশ্বকাপের গল্প।

আর্জেন্টিনার রয়েছে লিওনেল মেসি নামের এক কিংবদন্তি। যিনি কিনা যে কোনো সময় দুদলের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন। এই বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন রেকর্ড সর্বাধিক আটবারের ব্যালন ডি অর বিজয়ী এই তারকা। ৮ গোল করে ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন গোলদাতাদের মধ্যে। আজকের ম্যাচেও তার দিকে তাকিয়ে থাকবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ধীরে ধীরে ফর্ম ফিরে পেয়েছেন দলের অন্যতম দুই স্ট্রাইকার লাউতারো মার্টিনেজ ও হুলিয়ান আলভারেস। বিশেষ করে শেষ আটের ম্যাচে এই দুই স্ট্রাইকার গোলের দেখা পেয়েছেন। মধ্যমাঠে দারুন ফর্মে রয়েছেন লিয়ান্দ্রো পারাদেস। তা ছাড়া ডিফেন্সে ভালোই খেলছেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, নিকোলাস ট্যাগলিফিয়াকো, গনজালো মন্ট্রিয়েল ও নাহুয়েল মোলিনারা। আর গোলবার বিশ্বস্ততার সঙ্গে আগলে রেখেছেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। মাস্টারস্ট্রোক দিতে কখনও ভুল করেন না দলের অন্যতম কোচ মাস্টারমাইন্ড হিসেবে খ্যাত লিওনেল স্কালোনি।

ইংল্যান্ড দারুন খেলেই সেমিফাইনালে উঠে এসেছে। দলের দারুণ ফর্মে রয়েছেন আধিনায়ক হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহাম। দুজনেরই গোল সংখ্যা ৬টি করে। তবে ইংল্যান্ডের জন্য বড় সমস্যা দেখা দিতে পারে মধ্যমাঠের অন্যতম প্লে-মেকার ডেক্লাইন রাইসের ইনজুরি। যদি ফিট থাকেন তবেই কোচ টমাস টুখেল তাকে নামাবেন। এ ছাড়া লালকার্ড পাওয়ায় এই ম্যাচে খেলতে পারবেন না ডিফেন্সের খেলোয়াড় কুয়ান্সা।

আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড এই পর্যন্ত মোট ১৪ বার মুখোমুখি হয়েছে। যার মধ্যে ইংলিশদের জয়ের পাল্লাই বেশি। তারা জিতেছে ৬টি ম্যাচ। অপরদিকে আর্জেন্টিনার জয় ২বার। বাকি ৮টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। বিশ্বকাপে এই দুই দল ৫ বার মুখোমুখি হয়েছে। যার মধ্যে ইংল্যান্ড জিতেছে তিনবার। আর্জেন্টিনা ১ বার। ১৯৯৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচটি ড্র থাকায় টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডকে হারায়। এখন শুধু অপেক্ষা আটলান্টায় কারা শেষ হাসি হাসবে- ফাইনালে যাওয়ার পথে ট্যাঙ্গোর ছন্দ নাকি থ্রি লায়ন্সের গর্জন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com