বুধবার, ১২:৫০ পূর্বাহ্ন, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।
শিরোনাম :
গৌরনদীতে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার, আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় স্বামী গ্রেপ্তার মিসরের বিপক্ষে জিতলে আর্জেন্টিনার পরবর্তী খেলা কবে, প্রতিপক্ষ কে? ইমন গাজী হত্যা মামলায় সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি বাহার ও আ. লীগের ২ নেতা গ্রেপ্তার গৌরনদীতে মহিলা সংস্থার উদ্যোগে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বীমা খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে….. তথ্যমন্ত্রী ১৬ জেলায় বন্যার পূর্বাভাস ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু পরীক্ষা ফ্রি শ্রীপুরে পোশাক কারখানায় ৮০ শ্রমিক হঠাৎ অসুস্থ কোমে লাখো মানুষের শোকযাত্রা, বৃহস্পতিবার খামেনির দাফন ‘বসবাস অনুপযোগী’ শহরের তালিকায় আবারও তৃতীয় ঢাকা

দক্ষিণ ফ্রান্সে ভয়াবহ দাবানল, সরিয়ে নেওয়া হলো ১০ হাজারের বেশি মানুষ

সময়ের কণ্ঠধ্বনি ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬
  • ৫ বার পঠিত

দক্ষিণ ফ্রান্সে ভয়াবহ দাবানলের কারণে ১০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইউরোপজুড়ে চলমান গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহের মধ্যে এই দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

ফ্রান্সের স্পেন সীমান্তসংলগ্ন পিরেনিজ পর্বতমালার পাদদেশে অবস্থিত এক ডজনেরও বেশি ছোট শহর ও গ্রাম থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

স্থানীয় প্রশাসনের প্রধান (প্রিফেক্ট) পিয়ের রেনো দ্য লা মোতের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পারপিনিয়ঁ শহরের কাছে ত্রেভিয়াখ এলাকায় শুরু হওয়া আগুনে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪ হাজার ৬০০ হেক্টর বনভূমি পুড়ে গেছে।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ সোমবার টিএফ১ টেলিভিশনকে বলেন, “আজ সকালে পরিস্থিতির আবার অবনতি হয়েছে। আজ নতুন করে আগুন নিয়ন্ত্রণের লড়াই শুরু হচ্ছে।”

কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, প্রবল বাতাসের কারণে দাবানল আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

ত্রেভিয়াখ এলাকার বাসিন্দা পাত্রিস বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, “আগুন আমাদের বাড়ি থেকে মাত্র ৩০০ মিটার দূরে চলে এসেছিল। এত দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়বে, তা কল্পনাও করিনি। পরিস্থিতি আতঙ্কের সীমা ছুঁয়ে গিয়েছিল।”

ট্যুর দে ফ্রান্সে বিশেষ সতর্কতা

দাবানলের কারণে বিখ্যাত সাইক্লিং প্রতিযোগিতা ট্যুর দে ফ্রান্স-এর তৃতীয় ধাপেও প্রভাব পড়েছে। জরুরি সেবার যানবাহন নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করতে দর্শকদের শেষ ৪০ কিলোমিটার এলাকায় না যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন আয়োজকেরা।

প্রায় ১৯৫ দশমিক ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ধাপটি স্পেনের গ্রানোলার্স শহর থেকে শুরু হয়ে ফ্রান্সের পিরেনি-ওরিয়ঁতাল অঞ্চলের লে আঁগলসে শেষ হওয়ার কথা।

প্রতিযোগিতার পরিচালক ক্রিশ্চিয়ান প্রুধোম বলেন, “ব্যতিক্রমী দাবানল ট্যুরের জন্যও ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি রাখে। আমরা দর্শকদের অনুরোধ করছি, রেসের শেষ অংশ ও ফিনিশিং এলাকায় না আসতে।”

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তা

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন জানিয়েছেন, দাবানল নিয়ন্ত্রণে সহায়তার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন সাইপ্রাস ও সুইডেনে অবস্থানরত চারটি অগ্নিনির্বাপক বিমান ফ্রান্সে পাঠাচ্ছে।

স্পেনেও দাবানলের তাণ্ডব

দাবানলের প্রভাব পড়েছে প্রতিবেশী স্পেনেও। দেশটির লেস গাভারেস প্রাকৃতিক সংরক্ষিত এলাকায় ২ হাজার ২০০ হেক্টরের বেশি বনভূমি আগুনে পুড়ে গেছে।

কাতালোনিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার রাত পর্যন্ত আগুনের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং সপ্তাহের মধ্যেই পুরোপুরি নিভিয়ে ফেলা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে পূর্বাঞ্চলের কাস্তেয়োন প্রদেশে সিয়েরা দে এস্পাদান জাতীয় উদ্যানে দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় প্রায় ৫০০ বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা

আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সে তাপমাত্রা আবারও ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। ইতোমধ্যে পর্তুগাল ও স্পেনের কয়েকটি অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গেছে।

বিবিসি ওয়েদারের প্রধান আবহাওয়াবিদ ম্যাট টেইলর বলেন, জুন মাসের মতো নতুন রেকর্ড না গড়লেও বছরের এই সময়ের জন্য চলমান তাপপ্রবাহ অত্যন্ত অস্বাভাবিক। আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকার পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা কম থাকায় আরও দাবানলের ঝুঁকি রয়ে গেছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব

গত জুনে ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহের সময় ফ্রান্সের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল। ২৪ জুন দেশটি গড় হিসেবে ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ দিন পার করে।

সেই তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে অতিরিক্ত ২ হাজার ২৫ জন, বেলজিয়ামে ১ হাজার ২২২ জন এবং নেদারল্যান্ডসে প্রায় ৪৮০ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বাড়লেও ইউরোপ সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশ। কোপার্নিকাস জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপে বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হারে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহ, পানির সংকট এবং ভয়াবহ দাবানলের ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com