বুধবার, ০১:৪২ পূর্বাহ্ন, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।
শিরোনাম :
গৌরনদীতে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার, আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় স্বামী গ্রেপ্তার মিসরের বিপক্ষে জিতলে আর্জেন্টিনার পরবর্তী খেলা কবে, প্রতিপক্ষ কে? ইমন গাজী হত্যা মামলায় সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি বাহার ও আ. লীগের ২ নেতা গ্রেপ্তার গৌরনদীতে মহিলা সংস্থার উদ্যোগে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বীমা খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে….. তথ্যমন্ত্রী ১৬ জেলায় বন্যার পূর্বাভাস ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু পরীক্ষা ফ্রি শ্রীপুরে পোশাক কারখানায় ৮০ শ্রমিক হঠাৎ অসুস্থ কোমে লাখো মানুষের শোকযাত্রা, বৃহস্পতিবার খামেনির দাফন ‘বসবাস অনুপযোগী’ শহরের তালিকায় আবারও তৃতীয় ঢাকা

১০ জেলায় বন্যার শঙ্কা, সতর্কতা জারি

সময়ের কণ্ঠধ্বনি ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬
  • ৬ বার পঠিত

দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় কয়েকটি জেলায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।

আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর, গাইবান্ধা, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

রোববার (২৮ জুন) প্রকাশিত বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নদ-নদীর পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ স্টেশনে কুশিয়ারা নদীর পানি ৯ দশমিক ৪৯ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে, যা মৌসুমী বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই স্টেশনে পানির উচ্চতা আরও ৩ সেন্টিমিটার বেড়েছে।

এ ছাড়া নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদী, সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে কুশিয়ারা নদী এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দা পয়েন্টে সোমেশ্বরী নদী সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকার নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী তিন দিন এ প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার কয়েকটি পয়েন্টে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। গত ২৪ ঘণ্টায় এ অববাহিকার নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আগামী পাঁচ দিন এ ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী ১ থেকে ৩ জুলাইয়ের মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। এতে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে।

গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকার বিষয়ে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় গঙ্গার পানি কিছুটা কমলেও পদ্মার পানি বেড়েছে। আগামী দুই দিন পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে। এরপর পরবর্তী তিন দিন পানি বৃদ্ধি পেলেও তা বিপৎসীমার নিচেই থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

রংপুর বিভাগের তিস্তা, দুধকুমার ও ধরলা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় স্থিতিশীল থাকলেও আগামী তিন দিনে এসব নদীর পানি বাড়তে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নদীগুলো বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এর ফলে নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।

অন্যদিকে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের সারিগোয়াইন ও যাদুকাটা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। মনু, খোয়াই, ধলাই, সোমেশ্বরী এবং ভুগাই-কংস নদীর পানি কিছুটা কমলেও আগামী তিন দিনে আবারও বাড়তে পারে। এ সময়ে শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার ভুগাই-কংস ও সোমেশ্বরী নদী সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং আশপাশের নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্যের বরাতে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী চার দিন দেশের রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, অরুণাচল ও মেঘালয় অঞ্চলে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এরপর আরও এক দিন মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উজানের এই বৃষ্টিপাতের প্রভাবেই দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানি আরও বাড়তে পারে।

গত ২৪ ঘণ্টার বৃষ্টিপাতের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে বান্দরবানের লামায়। সিলেটের জাফলংয়ে রেকর্ড করা হয়েছে ৪১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত। অন্যদিকে ভারতের মেঘালয়ের মাওকিরওয়াতে ৩৯০ মিলিমিটার, মাউসিনরামে ২৬৪ মিলিমিটার, পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে ১৬২ মিলিমিটার এবং অরুণাচলের পাসিঘাটে ১৫২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা দেশের উজানের নদীগুলোর পানি বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দেশের ২৪৮টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে ১২৭টি স্টেশনে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, ৬৯টি স্টেশনে পানি কমেছে এবং ৫২টি স্টেশনে পানি অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে একটি স্টেশনে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে, যা সিলেট জেলার কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্ট।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com