মঙ্গলবার, ০২:৫৯ অপরাহ্ন, ১৬ জুন ২০২৬, ২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।

গালি দিয়ে এত সুখ পাওয়া যায় কেন

সময়ের কণ্ঠধ্বনি ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬
  • ৫ বার পঠিত

দৈনন্দিন জীবনে চলতে-ফিরতে, রেগে গেলে কিংবা বন্ধুদের আড্ডায় কথায় কথায় গালি দেওয়া অনেকেরই এক ধরনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। আবার রাস্তায় হঠাৎ হোঁচট খেলে বা তীব্র ব্যথা পেলে অনেকের মুখ থেকেই বেরিয়ে আসে গালি। ভদ্র-শান্ত মানুষও সেই মুহূর্তে নিজেকে সামলাতে পারেন না। আপাতদৃষ্টিতে এটিকে একটি সামাজিক অসভ্যতা বা নেতিবাচক আচরণ মনে হলেও, মানুষের মনে একটি বড় প্রশ্ন জাগে—গালি দেওয়ার পর ভেতরে এক ধরনের অদ্ভুত শান্তি বা ‘সুখ’ অনুভূত হয় কেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, গালি দেওয়া কেবল রাগ বা অভ্যাস নয়, এর পেছনে কাজ করে আমাদের মস্তিষ্ক ও আবেগের গভীর সম্পর্ক।

গালি কী, কেন আমরা বলি

গালি নিয়ে গবেষণা করা বিশেষজ্ঞ ড. এমা বার্নের মতে, গালি এমন এক ধরনের ভাষা যা মানুষ বিস্ময়, ব্যথা, রাগ বা আনন্দের মুহূর্তে ব্যবহার করে। এটি নির্দিষ্ট সমাজ ও সংস্কৃতির ট্যাবুর ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়।

অর্থাৎ, কোন শব্দটি গালি হবে তা নির্ধারণ করে দেয় সেই সমাজের মানুষরাই। যে শব্দগুলো সামাজিকভাবে নিষিদ্ধ বা অস্বস্তিকর বিষয়কে ইঙ্গিত করে, সেগুলোই ধীরে ধীরে গালিতে পরিণত হয়। তিনি বলেন, গালি এমন শব্দ যা আমরা সাধারণ পরিস্থিতিতে ব্যবহার করি না—যেমন অফিস সাক্ষাৎকার বা নতুন কারও পরিবারের সঙ্গে প্রথম দেখা।

মস্তিষ্কে গালির প্রভাব

গবেষণায় দেখা গেছে, গালি দেওয়া সময় আমাদের মস্তিষ্কে আবেগজনিত প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। অনেক ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের ভাষা নিয়ন্ত্রণ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও গালি দেওয়ার ক্ষমতা থেকে যায়। কারণ আবেগের সঙ্গে যুক্ত শব্দগুলো মস্তিষ্কের ভিন্ন অংশে সংরক্ষিত থাকে।

ব্যথা কমাতে কি গালি সাহায্য করে?

বিশেষজ্ঞ ড. রিচার্ড স্টিভেন্সের গবেষণায় দেখা গেছে, গালি দিলে শারীরিক ব্যথা কিছুটা সহনীয় হয়ে ওঠে। একটি পরীক্ষায় বরফঠান্ডা পানিতে হাত ডুবিয়ে রাখা ব্যক্তিরা যখন গালি দিচ্ছিলেন, তখন তারা তুলনামূলক বেশি সময় ব্যথা সহ্য করতে পেরেছেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, গালি দিলে শরীরে চাপ বা উত্তেজনা বাড়ে, যা পরে ব্যথার অনুভূতিকে কমিয়ে দেয়।

সব সংস্কৃতিতেই আছে গালি

বিশ্বের প্রায় সব ভাষা ও সংস্কৃতিতেই গালির অস্তিত্ব রয়েছে। স্প্যানিশ, রুশ কিংবা চীনা ভাষায় গালির ধরন আলাদা হলেও এর ব্যবহার প্রায় একই। কিছু গালি এতটাই শক্তিশালী যে তা পুরো বাক্যে ব্যবহৃত হয়, আবার কিছু গালি সামাজিক সম্পর্ক ও পারিবারিক ট্যাবুর সঙ্গে জড়িত।

প্রাণীরাও কি গালি দেয়?

গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু শিম্পাঞ্জি নিজেদের মধ্যে ইশারার মাধ্যমে অপমানসূচক আচরণ করে, যা অনেকটা গালির মতোই কাজ করে। এ থেকে ধারণা করা হয়, ট্যাবু বা নিষিদ্ধ কিছু প্রকাশের প্রয়োজন থেকেই গালির জন্ম হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গালি শুধু অশ্লীল শব্দ নয়—এটি মানুষের আবেগ প্রকাশের এক শক্তিশালী মাধ্যম। ব্যথা, রাগ বা চমকের মুহূর্তে মস্তিষ্ক দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতেই এই ভাষা ব্যবহার করে। অর্থাৎ, গালি যতই অশিষ্ট মনে হোক, এর পেছনে লুকিয়ে আছে মানুষের মস্তিষ্ক ও আবেগের এক চমকপ্রদ বিজ্ঞান।

মনোবিজ্ঞানীদের সতর্কতা:

গালি দেওয়া সাময়িক স্বস্তি বা সুখ দিলেও এটি কোনো স্থায়ী বা স্বাস্থ্যকর সমাধান নয়। অতিরিক্ত গালিগালাজের অভ্যাস মানুষের চিন্তাভাবনাকে নেতিবাচক করে তোলে এবং সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্কে মারাত্মক ক্ষতিসাধন করে। রাগ ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য গালির চেয়ে দীর্ঘশ্বাস নেওয়া, স্থান পরিবর্তন করা বা মেডিটেশনের মতো ইতিবাচক চর্চা অনেক বেশি কার্যকর ও মর্যাদাপূর্ণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com