ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ভিসা পেলেন না ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (পিএফএ) সভাপতি জিবরিল রাজুব। তার দাবি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও তিনি এখনও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাননি।
বৃহস্পতিবার মেক্সিকো সিটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার লড়াই মাঠে বসে উপভোগ করেন রাজুব। তবে বিশ্বকাপের একটি বড় অংশ যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, সেখানে তিনি যেতে পারেননি।
জানা গেছে, রাজুব ছাড়াও বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য আরও কয়েকজন ভিসা পাননি, নয়তো এখনও অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে সোমালিয়ার রেফারি এবং ইরাক জাতীয় দলের সঙ্গে থাকা একজন আলোকচিত্রীও রয়েছেন।
রাজুব বলেন, ‘আমি মনে করি না, বিশ্বের ফুটবল সংশ্লিষ্ট মানুষের টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের অধিকার কেড়ে নেওয়া বা তা থেকে বঞ্চিত করা ন্যায্য কোনো বিষয়।’
ফিলিস্তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে না পারলেও ফিফা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফুটবল সংস্থার প্রধানদের এই টুর্নামেন্টে আমন্ত্রণ জানিয়ে থাকে। আন্তর্জাতিক ঐক্য ও সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে বিশ্বকাপকে তুলে ধরে সংস্থাটি।
গত বছর ফিফা সভাপতি বলেছিলেন, টুর্নামেন্টের তিন আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো সব দর্শনার্থীকেই স্বাগত জানাবে। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেশ কয়েকজন স্বীকৃত প্রতিনিধি ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতায় পড়েছেন। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ইনফান্তিনো জানান, ফিফা ভিসা সমস্যাগুলো সমাধানে সহায়তার চেষ্টা করছে। তবে সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর তাদের কোনো কর্তৃত্ব নেই।
তিনি বলেন, “আমরা পৃথিবীর রাজা নই যে সরকার বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সিদ্ধান্ত বদলে দিতে পারব। আমাদের তাদের সিদ্ধান্তকে সম্মান করতে হবে।”
রাজুবের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র কিছু ফিলিস্তিনি পাসপোর্টধারীর ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করে। এর মধ্যে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করেছেন এমন ব্যক্তিরাও রয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েলের ফুটবল নীতির সমালোচনা করে আসছেন রাজুব। তার অভিযোগ, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ফিলিস্তিনি ফুটবলারদের চলাচলে বাধা দেয় এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরের বসতিগুলোর দলগুলোকে ইসরায়েলের জাতীয় লিগে খেলার সুযোগ দেয়।