বৃহস্পতিবার, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, [bangla_date] , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।
শিরোনাম :
১০ দিনেও প্রধান আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় গৌরনদী থানার সামনে সাংবাদিকদের মানববন্ধন ৭৩ দিনেই কোরআনের হাফেজ ১৩ বছরের মুসাইব, বিস্মিত শিক্ষক-অভিভাবক সমকামিতায় অভিযুক্ত ঢাবির দুই শিক্ষার্থী হল থেকে বহিষ্কার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন : আলোচনায় সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, দাবি ট্রাম্পের ঈদে মিলাদুন্নবী কবে, জানা যাবে বৃহস্পতিবার সিলেটে বাসা থেকে স্বামী-স্ত্রীসহ ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার অস্ট্রেলিয়ার বাউন্স সামলানোই বাংলাদেশের বড় চ্যালেঞ্জ: শান্ত সালমান শাহ হত্যা মামলা : ডনের জামিন নামঞ্জুর, ভাইকে ‘হত্যার হুমকি’ সাভারে জেএমবির আস্তানার পর এবার মিলল প্রেসার কুকার বোমা

৭৩ দিনেই কোরআনের হাফেজ ১৩ বছরের মুসাইব, বিস্মিত শিক্ষক-অভিভাবক

সময়ের কণ্ঠধ্বনি ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬
  • ৬ বার পঠিত
কঠোর অধ্যবসায়, একাগ্রতা ও শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় মাত্র ৭৩ দিনে পবিত্র কোরআনুল কারিম মুখস্থ করে হাফেজ হয়েছেন ১৩ বছরের মেধাবী শিশু মুসাইব হোসাইন। তার এমন অসাধারণ সাফল্যে বিস্মিত হয়েছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়রা। দ্রুততম সময়ে কোরআন হেফজ সম্পন্ন করায় মঙ্গলবার রাতে বরিশালের গৌরনদী উপজেলা গেট সংলগ্ন হযরত উবাই ইবনে কা’ব (রা.) হিফজুল কোরআন মাদ্রাসার পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
মুসাইব হোসাইন আগৈলঝাড়া উপজেলার ফুলশ্রী গ্রামের মিজানুর রহমান বেপারীর ছেলে। বর্তমানে সে ওই মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, ছোটবেলা থেকেই মেধাবী মুসাইব পড়াশোনার পাশাপাশি কোরআন শিক্ষায়ও আগ্রহী ছিল। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে মেধা তালিকায় স্থান করে নিয়ে বিভিন্ন পুরস্কার অর্জন করে সে। পরে পরিবারের সিদ্ধান্তে তাকে হযরত উবাই ইবনে কা’ব (রা.) হিফজুল কোরআন মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়।
মাদ্রাসায় ভর্তি হওয়ার পর কোরআন হেফজে মুসাইবের একাগ্রতা ও আগ্রহ দেখে শিক্ষকরা উৎসাহিত করেন। অবসর সময়েও সে নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াত ও মুখস্থ করায় মনোযোগ দিত। এমনকি অন্য শিক্ষার্থীরা যখন বিকেলে খেলাধুলা করত, তখনও সে এক পাশে বসে কোরআন মুখস্থ করত। রাতে অন্যরা ঘুমিয়ে পড়ার পরও সে তিলাওয়াত ও মুখস্থ করার কাজে ব্যস্ত থাকত। এভাবেই মাত্র ২ মাস ১৩ দিনে, অর্থাৎ ৭৩ দিনে সম্পূর্ণ কোরআন হেফজ সম্পন্ন করে মুসাইব।
মুসাইবের বাবা মিজানুর রহমান বেপারী বলেন, “আল্লাহ আমার ছেলেকে মেধা দিয়েছেন। তাই সেই মেধাকে দ্বীনের কাজে ব্যবহার করার ইচ্ছা থেকেই তাকে হিফজুল কোরআন মাদ্রাসায় ভর্তি করি। আল্লাহ তায়ালা আমার ছেলেকে ২ মাস ১৩ দিনে হাফেজ হিসেবে কবুল করেছেন। এতে একজন বাবা হিসেবে আমি অত্যন্ত গর্বিত। আমার ছেলের জন্য সবাই দোয়া করবেন।”
মুসাইবের মক্তব শিক্ষক বলেন, ছোটবেলা থেকেই মুসাইব অত্যন্ত মেধাবী ও মনোযোগী ছিল। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি সে কোরআন শিক্ষায়ও আগ্রহী ছিল। তার অসাধারণ স্মরণশক্তি, পরিশ্রম ও কোরআন হেফজের প্রতি গভীর আগ্রহ তাকে অল্প সময়ে এত বড় সাফল্য এনে দিয়েছে। তিনি মুসাইবের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেন।
মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ ক্বারী একরামুল হক বলেন, বিভিন্ন জায়গায় অল্প সময়ে শিক্ষার্থীদের কোরআন হেফজ করার কথা শুনলেও নিজের চোখে এমন ঘটনা দেখার সুযোগ তার আগে হয়নি। মুসাইবের ক্ষেত্রে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। তার নিজের আগ্রহ, নিরলস চেষ্টা এবং আল্লাহ তায়ালার রহমতে মাত্র ৭৩ দিনে কোরআন হেফজ সম্পন্ন হয়েছে। কোনো কোনো দিন মুসাইব একদিনেই এক পারা পর্যন্ত মুখস্থ করেছে বলেও জানান তিনি।
মুসাইব হোসাইন বলে, “সবার দোয়ায় আমি ৭৩ দিনে কোরআনের হাফেজ হতে পেরেছি। বড় হয়ে একজন বড় আলেম হতে চাই। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন।”
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, এর আগেও প্রতিষ্ঠানটির ওস্তাদদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এখানকার শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন কোরআন তেলাওয়াত ও হিফজ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সুনাম অর্জন করেছেন। মুসাইবের এই সাফল্য মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্যও আনন্দ ও অনুপ্রেরণার বিষয় হয়ে উঠেছে।
মাত্র ৭৩ দিনে পবিত্র কোরআন হেফজ করার এই সাফল্য শুধু মুসাইবের একার নয়, এটি তার পরিবার, শিক্ষক ও মাদ্রাসার জন্যও গর্বের। তার এই অধ্যবসায় ও একাগ্রতা অন্য শিশু-কিশোরদেরও কোরআন শিক্ষায় আগ্রহী করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com