পরবর্তী প্রজন্মের জন্য পৃথিবীকে বাসযোগ্য রাখতে হলে ব্যাপক বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি প্রতিটি গাছের যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, “বৃক্ষরোপণ করেই দায়িত্ব শেষ নয়। গাছকে লালন-পালন করে সম্পদে পরিণত করতে হবে। শুধু ছবি তোলা বা প্রচারণার জন্য গাছ লাগানো হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। আমি নিজেই এসব গাছের পরিচর্যা তদারকি করব। যারা আন্তরিকভাবে পরিচর্যা করবেন, তাদের পুরস্কৃত করা হবে।”
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় দিনব্যাপী আয়োজিত তিনটি পৃথক কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলা কৃষক দলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ আয়োজনে তিন দিনব্যাপী ‘বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬’-এর উদ্বোধন এবং উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষের চারা ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি।
দিনের প্রথম কর্মসূচি হিসেবে সকালে উপজেলার নলচিড়া ইউনিয়নের কুতুবপুর এলাকায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত গরঙ্গল-কুতুবপুর স্বনির্ভর খালের দুই পাড়ে উপজেলা কৃষক দলের উদ্যোগে এক হাজার বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের চারা রোপণের উদ্বোধন করা হয়।
এ সময় মন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বনভূমি বৃদ্ধি, নদী-খালপাড়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক সবুজায়ন জরুরি। তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। এ কর্মসূচি সফল করতে দলীয় নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খনন করা স্বনির্ভর খালের দুই পাড় সবুজ বনায়নের মাধ্যমে সংরক্ষণ করতে হবে। “লাগাই গাছ, সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” এই স্লোগান বাস্তবায়নে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।
রাজনৈতিক প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, জনগণের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করতে হবে। ক্ষমতার অপব্যবহার কোনো রাজনৈতিক দলের জন্য কল্যাণকর নয়। দলীয় নেতাকর্মীদের অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে জনগণের আস্থা অর্জনের আহ্বান জানান তিনি।
উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বরিশাল বিভাগের বন সংরক্ষক ড. মোল্যা রেজাউল করিম, বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মিজানুর রহমান খান মুকুল, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লবসহ স্থানীয় নেতারা।
পরে গৌরনদী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ আয়োজনে তিন দিনব্যাপী বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করেন মন্ত্রী। উদ্বোধন শেষে তিনি কলেজ ক্যাম্পাসে একটি গাছের চারা রোপণ করেন এবং প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থীর হাতে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের চারা বিতরণ করেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “প্রত্যেক শিক্ষার্থী অন্তত একটি করে গাছ লাগাবে এবং সেটির পরিচর্যার দায়িত্ব নেবে। আজকের একটি চারা আগামী দিনের মূল্যবান সম্পদ।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বন সংরক্ষক (কোস্টাল সার্কেল) ড. মোল্যা রেজাউল করিম। উপস্থিত ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ নির্মল হালদারসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
দুপুরে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অর্থায়নে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী ও বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়। একই অনুষ্ঠানে ‘নতুন কুঁড়ি’ ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় জেলা পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী বিজয়ী শিক্ষার্থীদের পুরস্কার ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, “একটি সুস্থ, মেধাবী ও দেশপ্রেমিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা ও বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। নিয়মিত ক্রীড়াচর্চা যেমন শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটায়, তেমনি বৃক্ষরোপণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করে।”
এ সময় উপজেলার ১৩১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১৪টি মাদ্রাসা এবং ৭টি কলেজের প্রতিনিধিদের হাতে পাঁচটি করে বৃক্ষের চারা তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ এবং বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সেকেন্দার শেখ, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. পলাশ সরকার, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা বিভাষ কুমার দাস, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাহাবুবুর রহমানসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সবুজায়ন বৃদ্ধি, পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা সৃষ্টি, শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করা এবং পরিবেশবান্ধব ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলাই এসব কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
এ জাতীয় আরো খবর..