বুধবার, ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।
শিরোনাম :
আন্দোলনকারীদের উসকে দিলে হিতে বিপরীত হতে পারে: সর্ব মিত্র চাকমা এমসি কলেজে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন দাবি ভুক্তভোগীর, অস্বীকার অভিযুক্তের, নারী সংক্রান্ত অভিযোগের কথা বলে বিএনপি কার্যালয়ে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ দীর্ঘ ২০ বছর পর কলকাতায় যাচ্ছেন তসলিমা নাসরিন বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান মির্জা ফখরুলের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ‘স্টার্টআপ উদ্যোক্তাকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত সহযোগিতা করার চেষ্টা করব’ সংসদ ভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ উন্নত বাংলাদেশ গড়তে দক্ষ যুবসমাজ গড়ে তোলার বিকল্প নেই : রাষ্ট্রপতি অবসরে আপিল বিভাগের বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম বাঁধ মেরামত ও নদী তীর সংরক্ষণে জোরালো ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার : পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

উভয় পক্ষের নিশানায় সামরিক ঘাঁটি, নৌপথ

সময়ের কণ্ঠধ্বনি ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬
  • ৫ বার পঠিত

হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে ব্যাপক পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়েছে। এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর এ ধরনের বড় আকারের সংঘর্ষ এবারই প্রথম দেখা গেল। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়েও নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

গতকাল সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় নতুন দফায় হামলা চালানোর পর তেহরান ঘোষণা দেয়, ওয়াশিংটন যুদ্ধ বন্ধে স্বাক্ষরিত জুনের সমঝোতা স্মারকের (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) অঙ্গীকার বাস্তবায়ন না করলে তারাও আর সেই সমঝোতা মেনে চলবে না।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, অন্য পক্ষ যখনই তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে, তখনই ইরানও নিজের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করেনি এবং ভবিষ্যতেও একই নীতি অনুসরণ করবে। তবে তিনি জানান, কাতার, পাকিস্তান ও ওমানের মধ্যস্থতায় উত্তেজনা প্রশমনের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে যৌথ ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে ওমানের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে সে উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, রাতভর পরিচালিত অভিযানে ইরানের বিভিন্ন স্থানে কয়েক ডজন লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে হামলা চালানোর সক্ষমতা দুর্বল করা।

সেন্টকম জানায়, হামলায় ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা, ড্রোন, ছোট নৌযান এবং অন্যান্য সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান, নৌযান ও ড্রোন এই অভিযানে অংশ নেয়।

মার্কিন বাহিনী আরও দাবি করে, হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ এবং এর ওপর ইরানের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে মার্কিন বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানানো হয়।

ইরানের মেহর বার্তা সংস্থা জানায়, গতকাল সোমবার দুপুরে বন্দর আব্বাসের পশ্চিম উপকূল এলাকায় নতুন বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পরে বন্দর আব্বাস ও কেশম দ্বীপের আশপাশেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। আবাসিক বা বাণিজ্যিক স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির খবর না মিললেও ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবি, সাম্প্রতিক কয়েক রাতের মার্কিন হামলায় দক্ষিণ উপকূলে কয়েকজন জেলে ও নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলে মার্কিন হামলায় অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। মাহশাহরের একটি কৃষি পানি পাম্পিং স্টেশনে হামলায় একজন নিহত ও চারজন আহত হন। ইসফাহান প্রদেশের নাইন শহরের একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলায় আরও একজন নিহত এবং সাতজন আহত হয়েছেন।

ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানায়, তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে জর্ডান, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়েছে।

আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটির একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র গুদাম ও জ্বালানি ট্যাংকে হামলা চালিয়ে সেখানে আগুন লাগানো হয়েছে। বাহরাইনের শেখ ইসা ঘাঁটিতে মার্কিন সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, একটি পি-৮ ইলেকট্রনিক যুদ্ধবিমান হ্যাঙ্গার এবং ড্রোন কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়। পরে তারা জুফাইর এলাকায় মার্কিন সামরিক স্থাপনাতেও হামলার কথা জানায়।

কুয়েতে আলী আল-সালেম ঘাঁটির জ্বালানি সংরক্ষণাগার, একটি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, আহমেদ আল-জাবের ঘাঁটির এফপিএস কৌশলগত রাডার এবং একটি মার্কিন ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে হামলার দাবি করে আইআরজিসি। তাদের দাবি, দুটি হিমার্স ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ও ক্ষেপণাস্ত্র গুদাম সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। ওমানে দীর্ঘপাল্লার এফপিএস আকাশ নজরদারি রাডার ও জাহাজ শনাক্তকারী রাডার ধ্বংস করারও দাবি করেছে আইআরজিসি।

ইরানের ভাষ্য, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ বন্ধ এবং উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখানোই নৌপথ স্বাভাবিক করার একমাত্র উপায়। অন্যথায় বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস খাতে আরও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

বাহরাইনে বিমান হামলার সতর্কসংকেত জারি করা হয়। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী জানায়, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করে একাধিক আকাশযান ভূপাতিত করা হয়েছে। বেসামরিক মানুষ ও সম্পদের ওপর হামলাকে তারা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে। কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায়, তারা শত্রুপক্ষের আকাশীয় লক্ষ্যবস্তু প্রতিহত করেছে। জর্ডানের সেনাবাহিনী জানায়, তারা ইরানের চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার অভিযোগ করেছে, ইরান ও হুথিরা দেশটির আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে। প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল জানায়, ইরানের মাহান এয়ারের একটি যাত্রীবাহী বিমান সানায় অবতরণ করেছে, যা দেশের সার্বভৌমত্বের পরিপন্থি। অন্যদিকে ফার্স বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, ওই সফরে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে হুথি নেতাদের বৈঠকের কথা রয়েছে। পরে হুথিসংশ্লিষ্ট আল-মাসিরাহ টেলিভিশন জানায়, সৌদি আরব সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে।

গত সপ্তাহজুড়ে সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু ছিল হরমুজ প্রণালি। ইরানের বিপ্লবী গার্ড দাবি করেছে, প্রণালিটি বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য এটি উন্মুক্ত।

গত রবিবার একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর সেটিতে আগুন ধরে গেলে নাবিকরা জাহাজ ত্যাগ করতে বাধ্য হন। এরপর আইআরজিসি ঘোষণা দেয়, মার্কিন হস্তক্ষেপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।

গতকাল সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, অনুমোদনহীন পথ ব্যবহার করে প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করায় দুটি জাহাজের উদ্দেশে সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ে আইআরজিসির নৌবাহিনী এবং সেগুলোকে থামিয়ে দেওয়া হয়। তবে জাহাজগুলোর নাম প্রকাশ করা হয়নি।

ইরানের রাষ্ট্রদূত বেইজিংয়ে জানিয়েছেন, প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে নতুন ফি নেওয়া হবে। তবে চীনসহ বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, হরমুজ একটি আন্তর্জাতিক নৌপথ এবং সেখানে নিরাপদ ও অবাধ জাহাজ চলাচল সবার স্বার্থে। ইউরোপীয় কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজা কালাস বলেন, প্রণালিতে আগের মতো অবাধ নৌচলাচল ফিরিয়ে আনতে হবে এবং কোনো ধরনের টোল বা ফি আরোপ করা উচিত নয়।

শিপিং তথ্যপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। গত রবিবার মাত্র ছয়টি জাহাজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে ‘হিউম্যানিটি’ নামের একটি ভিএলসিসি ট্যাংকারে ২০ লাখ ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল এবং ‘ক্যাপেটান আন্দ্রেয়াস’ জাহাজে পাঁচ লাখ ব্যারেল কুয়েতি পেট্রোলিয়াম পণ্য পরিবহন করা হচ্ছিল। এ ছাড়া তিনটি খালি তেলবাহী ট্যাংকার উপসাগরে প্রবেশ করেছে তেল বোঝাইয়ের জন্য।

সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক দিমিত্রিস মানিয়াতিস জানান, গত তিন দিনে ২৬টি জাহাজ ইরান-নিয়ন্ত্রিত রুট ব্যবহার করেছে, আরও ২৬টি জাহাজ তাদের ইলেকট্রনিক ট্র্যাকিং ব্যবস্থা বন্ধ রেখেছে এবং মাত্র পাঁচটি জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রসমর্থিত দক্ষিণাঞ্চলীয় রুট বেছে নিয়েছে।

তার মতে, বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে একটি একক আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন ব্যবস্থা নয়, বরং সমান্তরাল ও প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রানজিট ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক ও নিরাপত্তাজনিত বিবেচনায় জাহাজ পরিচালনাকারীরা ভিন্ন ভিন্ন পথ বেছে নিচ্ছে। তিনি আরও জানান, জাপান সরকারের মধ্যস্থতায় আটকে পড়া সাতটি জাপানি জাহাজ নিরাপদে প্রণালি ত্যাগ করতে পেরেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বিরুদ্ধে অবরোধ ‘পুনর্বহাল’ করছে এবং নিরাপদে যাতায়াতের জন্য জাহাজগুলোর কাছ থেকে অর্থ আদায় করবে। ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘‘যুক্তরাষ্ট্র ‘হরমুজ প্রণালির অভিভাবক’ নামে পরিচিত হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, ‘সেই হিসেবে, এবং ন্যায্যতার স্বার্থে, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার এই অত্যন্ত অস্থিতিশীল বিশ্বের এই অংশে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যয়ের বিপরীতে পরিবাহিত সব ধরনের পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ হারে আমাদের অর্থ ফেরত নেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়া ও এর কাঠামো গঠন অবিলম্বে শুরু হবে।’ পাকিস্তান আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য যৌথ বিবৃতিতে হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজ এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়ে যুদ্ধবিরতি পুনর্বহাল ও আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে।

ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো বলেছেন, ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক কর্মকাণ্ড থেকে সরে না আসা পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে না।

যুক্তরাজ্য ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ‘বিদেশি শক্তির হুমকি’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে ইরানসংশ্লিষ্ট আরেকটি সংগঠনকেও একই আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কারণে হরমুজ প্রণালিতে আবারও নিরাপত্তাহীনতা ফিরে এসেছে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে পড়েছে। তবে তারা দাবি করেছে, সমঝোতা স্মারকের অধীনে নিজেদের অঙ্গীকার ইরান পালন করেছে এবং অপর পক্ষই বিভিন্ন অজুহাতে তা লঙ্ঘন করেছে।

একই সংবাদ সম্মেলনে ইসমাইল বাঘাই বলেন, সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক আইনগত প্রক্রিয়ায় বিচার নিশ্চিত করতে ইরান সব ধরনের কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুর পর তাকে ‘বিদ্বেষপূর্ণ’ ব্যক্তি হিসেবে অভিহিত করেছে। তাদের দাবি, আগ্রাসন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনই ছিল তার রাজনৈতিক দর্শন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com