বিশ্বকাপের উত্তাপ এখন চরমে। দীর্ঘ এক মাসের লড়াই, অঘটন আর রুদ্ধশ্বাস ম্যাচের পর শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ফুটবলবিশ্বের চার পরাশক্তি-আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন ও ইংল্যান্ড। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর কাছে এটি যেন স্বপ্নের শেষ চার, যেখানে প্রতিটি দলই শিরোপার দাবিদার। আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে সফল ও ধারাবাহিক চার দলের উপস্থিতি এবারের সেমিফাইনালকে বিশেষ মাত্রা দিয়েছে। ফিফা র্যাংকিংয়ের শীর্ষ চার দলের একই সঙ্গে বিশ্বকাপের শেষ চারে ওঠা ফুটবল ইতিহাসের বিরল এক ঘটনা।
বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা আবারও দেখিয়েছে কেন তারা বড় টুর্নামেন্টের দল। কঠিন মুহূর্তে নিজেদের সামলে নেওয়া, ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের নেতৃত্ব- সব মিলিয়ে আলবিসেলেস্তেরা আবারও শিরোপার খুব কাছে পৌঁছে গেছে।
ফ্রান্সও টুর্নামেন্টজুড়ে তাদের শক্তির প্রমাণ দিয়েছে। বিস্ফোরক আক্রমণভাগ, দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাক এবং বড় ম্যাচে নিজেদের সেরাটা বের করে আনার সামর্থ্য তাদের অন্যতম বড় অস্ত্র। বিশ্বকাপের মঞ্চে টানা সফলতার ধারাবাহিকতা ধরে রেখে আবারও ফাইনালের স্বপ্ন দেখছে লে ব্লুরা।
অন্যদিকে স্পেন যেন নতুন করে নিজেদের পরিচয় দিচ্ছে। বলদখলনির্ভর ফুটবল, দ্রুত পাসিং এবং সংগঠিত দলগত পারফরম্যান্সে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখছে লা রোহা। তরুণ ও অভিজ্ঞদের মিশেলে গড়া দলটি এবারের আসরে অন্যতম পরিপূর্ণ দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।
ইংল্যান্ডও পিছিয়ে নেই। গত কয়েকটি বড় টুর্নামেন্টের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে তারা আবারও সেমিফাইনালে। শক্তিশালী স্কোয়াড, আক্রমণ ও রক্ষণে ভারসাম্য এবং কঠিন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতা ইংলিশদের অন্যতম বড় শক্তি।
সেমিফাইনালে ফ্রান্স ও স্পেনের দ্বৈরথকে কৌশলগত ফুটবলের শ্রেষ্ঠ লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে। একদিকে ফ্রান্সের গতিময় আক্রমণ, অন্যদিকে স্পেনের বলদখলের আধিপত্যÑ দুই ভিন্ন দর্শনের সংঘর্ষ উপভোগ করতে মুখিয়ে ফুটবলবিশ্ব।
অন্য সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ইতিহাস, আবেগ, তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং অসংখ্য স্মৃতিতে ঘেরা এই লড়াইকে ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
৪৮ দলের সম্প্রসারিত বিশ্বকাপে অনেক চমক দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালের মঞ্চে জায়গা করে নিয়েছে ফুটবলের চার প্রতিষ্ঠিত শক্তি। এখন প্রশ্ন একটাইÑ চার মহারথীর এই মহারণ শেষে কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি?