রবিবার, ০৭:৪৭ অপরাহ্ন, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।
শিরোনাম :
সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন-হামিদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ হজের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু সোমবার, যেতে পারবেন না যারা ‘ক্রসফায়ারে’ একরামুল হত্যা : হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল কোনো বাধা ছাড়াই দেশত্যাগের সমঝোতায় পদত্যাগ করেন সাহাবুদ্দিন বিশ্বকাপ শেষে প্রথমবার জনসমক্ষে মেসি জাতীয় স্মৃতিসৌধে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা পছন্দ-অপছন্দ ও রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বাস রুটে আসছে বড় পরিবর্তন সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী আন্দোলন সফল, এবার কি ভোটের রাজনীতিতে নামবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’

আগৈলঝাড়ায় ২৪ লাখ টাকার সড়ক সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ

মো.মোস্তফা হাওলাদার
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬
  • ৮৯ বার পঠিত
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রায় ২৫ লাখ টাকার একটি সড়ক সংস্কার প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ, অনিয়ম ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বৃষ্টির মধ্যেই কার্পেটিং, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ছাড়াই কাজ করায় নতুন নির্মিত সড়কের কার্পেটিং হাতের স্পর্শেই উঠে যাচ্ছে। এ ঘটনায় প্রকল্প তদারকির দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র ও এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, আগৈলঝাড়া উপজেলার মাহিলাড়া-আম্বুল্লা-ছয়গ্রাম-পয়সারহাট ভায়া বাগধা ইউনিয়নের তালবাড়ি এলাকার ৫৪০ মিটার সড়ক সংস্কারের জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২৪ লাখ ৫৯ হাজার ৮০০ টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ২০২৫ সালের অক্টোবরে দরপত্র আহ্বানের পর ওই বছরের ডিসেম্বরে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে বাবুগঞ্জ উপজেলার মো. আসাদুজ্জামানের প্রতিষ্ঠান মেসার্স সরদার ট্রেডিং কার্যাদেশ পায়। গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর কাজ শুরু হলেও চলতি বছরের জুন মাসে এসে কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর মোল্লা ও শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, কাজের শুরু থেকেই নানা অনিয়ম করা হয়েছে। নিম্নমানের ইট, পাথর ও বিটুমিন ব্যবহার করা হয়েছে। কার্পেটিংয়ের আগে সড়ক পরিষ্কার না করে ধুলা-ময়লার ওপরই বিটুমিন ও কার্পেটিং দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও পিচের প্রলেপ না দিয়েই কার্পেটিং করা হয়েছে। ফলে সড়কের অবস্থা এমন হয়েছে যে, হাত দিলেই কার্পেটিং উঠে আসছে।
তারা আরও অভিযোগ করেন, কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুললে ঠিকাদারের লোকজন তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেন। তাদের দাবি, দায়িত্বশীলদের অবহেলা ও ঠিকাদারের খামখেয়ালিপনার কারণে কোটি মানুষের করের টাকায় নির্মিত সড়কটি অল্প সময়ের মধ্যেই নষ্ট হওয়ার পথে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন সুবিধাভোগী জানান, উপজেলা এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদের উপস্থিতিতেই নিম্নমানের কাজ হয়েছে। তার যোগসাজশে প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সরদার ট্রেডিংয়ের মালিক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, তার লাইসেন্সে কাজটি হলেও প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছেন আগৈলঝাড়া উপজেলার দলিল লেখক মো. জাকির মোল্লা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জাকির মোল্লা বলেন, এক ট্রাক পাথর ও বিটুমিন নিয়ে আসার পর বৃষ্টি শুরু হয়। তিনি বৃষ্টির মধ্যে কাজ করতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদের নির্দেশে শ্রমিকরা কাজ চালিয়ে যান। এর ফলেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল ইসলাম বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যদি দায়িত্বশীলভাবে কাজ তদারকি করতেন, তাহলে উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠত না। ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার যোগসাজশের কারণেই নিম্নমানের কাজ হয়েছে এবং নতুন সড়কের কার্পেটিং এখন উঠে যাচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, “আমি কাজ শুরু করিয়ে স্থান ত্যাগ করেছি। পরে কী হয়েছে, তা আমার জানা নেই। যেখানে নিম্নমানের কাজ হয়েছে বা কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে, সেখানে পুনরায় কার্পেটিং করা হবে।”
উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বরিশাল এলজিইডির বিভাগীয় কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। এখনো ঠিকাদারকে কোনো বিল দেওয়া হয়নি। ত্রুটিযুক্ত অংশ মানসম্মতভাবে পুনর্নির্মাণ না করলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি অর্থে নির্মিত একটি সড়ক যদি উদ্বোধনের আগেই ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়, তাহলে উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষ কীভাবে পাবে? তাদের দাবি, প্রকল্পটির নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা হোক।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com