যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুরু করা ইরানযুদ্ধ নিয়ে ইউরোপের অধিকাংশ দেশ যখন ‘পা টিপে টিপে’ এগোচ্ছে, তখন সম্পূর্ণ ভিন্ন মেরুর অবস্থান নিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। ওয়াশিংটনের সরাসরি হুমকি উপেক্ষা করে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই যুদ্ধে স্পেন কোনোভাবেই আমেরিকার সহযোগী হবে না। এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে এমন কথা লিখেছে দ্য গার্ডিয়ান।
ইউরোপের দ্বিধা : ইউরোপের অন্য শক্তিশালী দেশগুলো ট্রাম্পকে চটানো ও আন্তর্জাতিক আইন রক্ষার মাঝে ভারসাম্য রাখতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার শুরুতে মার্কিন বাহিনীকে ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন। একে তিনি ‘আকাশ থেকে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন’ বলে সমালোচনাও করেন। কিন্তু ট্রাম্পের চাপের মুখে তিনি দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন করেন ও ‘প্রতিরক্ষামূলক কাজের’ অজুহাতে ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেন। একে বিশ্লেষকরা ট্রাম্পের রোষানল থেকে বাঁচার একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন। জার্মানি, ইতালি ও ফ্রান্সও নিজের স্বার্থ রক্ষা করে ট্রাম্পকে একরকম এড়িয়ে চলছে।
সানচেজের সাহস : যুক্তরাষ্ট্র স্পেনের অন্যতম বড় বিনিয়োগকারী। গত বছর প্রায় ৪০ লাখ মার্কিন পর্যটক দেশটি সফর করেছেন এবং টেক জায়ান্ট অ্যামাজন স্পেনে ৪০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। এত বড় অর্থনৈতিক ঝুঁকি সত্ত্বেও সানচেজ অনড়।
এক টেলিভিশন ভাষণে সানচেজ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই সামরিক অভিযানকে ‘বেপরোয়া ও অবৈধ’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। শুধু কারও প্রতিশোধের ভয়ে আমরা এমন কোনো কাজের অংশীদার হব না, যা বিশ্বের জন্য অমঙ্গলজনক এবং আমাদের মূল্যবোধ ও স্বার্থের পরিপন্থী।’
স্পেনের এই অবস্থান ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির মুখে বড় একটি কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য দেশ এই দ্বন্দ্বে মাদ্রিদকে কতটা সমর্থন দেয়।