মঙ্গলবার, ০৪:১৮ পূর্বাহ্ন, ২৪ মার্চ ২০২৬, ১০ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।

সাক্ষাৎকার : বিএনপিকে নতুন প্রজন্মের মন বুঝতে হবে-জহির উদ্দিন স্বপন

সময়ের কণ্ঠধ্বনি ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৬৫ বার পঠিত

নতুন প্রজন্মের চিন্তাকে রাষ্ট্র পরিকল্পনা ও নির্বাচনের প্রস্তুতির মধ্যে নিয়ে আসা এবং সেটাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা বিএনপির প্রধান কাজ বলে মনে করেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ আসনে (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) ধানের শীষের প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন। তার মতে, অতীতের মতো রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চা করলে হবে না, এখন নতুন প্রজন্মের মন বুঝে বিএনপির রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি করতে হবে। সম্প্রতি একটি পত্রিকায় দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

সংসদ নির্বাচনে এবার বিএনপির প্রার্থী মনোনয়ন কেমন হয়েছে বলে মনে করেন?

জহির উদ্দিন স্বপন: এত বড় দলে মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যা অনেক। প্রত্যাশার সময় কারোই কোনো যুক্তিবোধ থাকে না। দলের সবাই নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মী। গড়ে যদি একেকটা নির্বাচনী এলাকায় তিন থেকে চারজন করেও থাকেন, তাহলে প্রায় এক হাজার মনোনয়নপ্রত্যাশী। এর মধ্য থেকে ৩০০ জনকে বেছে নেওয়ার একটা প্রক্রিয়া। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবারে অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে মনোনয়ন প্রক্রিয়াকে অনেক বেশি বিজ্ঞানসম্মত এবং একটা দীর্ঘমেয়াদি জরিপের মধ্যে দিয়ে নির্ধারণ করেছেন। এটাই একটা সঠিক প্রক্রিয়া। ফলে বেশিরভাগ মনোনয়নই আমাদের কাছে এবং দলের নেতাকর্মীদের কাছেও গ্রহণযোগ্য হয়েছে।

আপনি প্রার্থী হওয়ার পর স্থানীয় নেতাকর্মীদের সহযোগিতা কেমন পাচ্ছেন?

জহির উদ্দিন স্বপন: আমার এলাকা বরিশালের গৌরনদী ও আগৈলঝড়া উপজেলায় দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী আমার হয়ে কাজ করছেন। খুব কম জায়গাতেই এমনটা দেখেছি, ফলে আমি সে দিক থেকে খুবই সৌভাগ্যবান। এজন্য সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানাই যে, তারা আমাকে দলের প্রার্থী হিসেবে গ্রহণ করেছেন। আমি অন্যান্য মনোনয়নপ্রত্যাশীর সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। দু-একজনের মনোনয়ন প্রত্যাশার পর মন খারাপ থাকে। এ ধরনের বিচ্ছিন্ন-বিক্ষিপ্ত কিছু মান-অভিমানের ব্যাপার আছে। আমি যেহেতু দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মী, ফলে ধৈর্য দিয়ে এবং আমার সব সহকর্মী মিলেই কথাবার্তা বলে সমাধান করে ফেলেছি। এখন সর্বসম্মতভাবেই আমরা নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছি।

এবারের নির্বাচনী পরিবেশটা আপনার কাছে কেমন মনে হচ্ছে?

জহির উদ্দিন স্বপন: নির্বাচনী পরিবেশ এখন পর্যন্ত ভালো। তবে বাংলাদেশে গত ৪০ বছরের রাজনীতিতে দুই নেত্রীর যে তৎপরতা থাকত নির্বাচন ঘিরে এবং উনাদের দুজনের তৎপরতা ঘিরেই মূলত জাতীয় নির্বাচনগুলো আলোড়িত হতো। এবারে দুজনই অনুপস্থিত। একজন ফ্যাসিবাদের তকমা ও কারাদণ্ড নিয়ে পালিয়ে আছেন দেশের বাইরে। আরেকজন আমাদের দেশমাতা খালেদা জিয়া মৃত্যুর সঙ্গে যুদ্ধ করে টিকে আছেন। আমরা দোয়া করি তিনি আমাদের মাঝে সুস্থ হয়ে ফিরে আসেন।

এরই মধ্যে নির্বাচনে যে তৎপরতা শুরু হয়েছে তাতে প্রমাণ হয়েছে, এবারের নির্বাচনে যে কোনো প্রার্থীকে সাধারণ মানুষের কাছে তার যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হবে। কারণ, বিগত নির্বাচনগুলোয় একটা দ্বিদলীয় প্রতিযোগিতা ছিল। এ কারণে এ প্রশ্নগুলো খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল না, ভোটাররা দলকেই মূলত নির্বাচন করতেন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এবার শুধু দল নয়, একজন প্রার্থীর সততা, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তার দক্ষতা, তিনি ভব্যিষ্যতে তার এলাকার জন্য কী করতে পারবেন—এ মানদণ্ডগুলো ভোটাররা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। বিএনপিও প্রার্থী দেওয়ার ক্ষেত্রে এ মানদণ্ড বিবেচনায় নিয়েছে। যে কারণে আমরা আশাবাদী, জনগণ আমাদের বেছে নেবে।

নির্বাচনী গণসংযোগে সাধারণ মানুষের কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

জহির উদ্দিন স্বপন: আমার নির্বাচনী এলাকা গৌরনদী-আগৈলঝড়ার মানুষ আমাকে সবসময় ভালোবাসে, সম্মান করে। এদিক থেকে বলব, আমি খুবই সৌভাগ্যবান। আমি একটা দলের প্রার্থী বটে, কিন্তু আমি আমার নির্বাচন এলাকায় সবসময় একটা সর্বজন গ্রহণযোগ্যতা পেয়ে আসছি। এটা তাদেরই মহানুভবতা। আমি প্রিভিলেজড।

তরুণ প্রজন্মের প্রায় ৪ কোটির ভোটারকে আস্থায় নিতে বিএনপির আকর্ষণীয় প্রস্তাবটা কী হতে পারে?

জহির উদ্দিন স্বপন: এরই মধ্যে আমাদের ৩১ দফা কর্মসূচিতে আমাদের নেতা তারেক রহমান তিনি জেএনজির উদ্দেশে বেশকিছু কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। আমরা এরই মধ্যে ঘোষণা করেছি, ১৮ মাসে প্রায় ১ কোটি কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করব। এ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার জায়গাগুলোও আমরা এর মধ্যেই নির্ধারণ করেছি। শুধু পলিটিক্যাল রেটরিক নয়, এটাকে আমরা সিরিয়াসলি নিয়েছি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ৫ আগস্টের পর থেকে বলে আসছেন, এবারের সংসদ নির্বাচনটা বেশ চ্যালেঞ্জিং। আপনার কী মত?

জহির উদ্দিন স্বপন: এ নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিটা অতীতের মতো নয়। আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে যে ইলেক্টোরাল ইকোসিস্টেমটা ছিল, এবার কিন্তু সম্পূর্ণ নতুন। অতীতের নির্বাচনের পরিসংখ্যান বলে যে, আওয়ামী লীগ বিএনপির সঙ্গে তৃতীয় দল হিসেবে জাতীয় পার্টি বা জামায়াতের ব্যবধান ছিল অনেক। ৫ থেকে ৭ পার্সেন্ট—এরকম। যেখানে আওয়ামী লীগ বিএনপির ভোটের অনুপাত ছিল ৪০ ভাগের কাছাকাছি। ফলে এতটা দূরত্বের মধ্যে যখন বড় প্রতিদ্বন্দ্বী থাকে না, তখন কিন্তু একটা নতুন পরিপ্রেক্ষিত তৈরি হয়। সেটাকেই আমরা মিন করতে চাচ্ছি। এ ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি যেহেতু ধর্মকে আশ্রয় করছে, ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছে। ফলে সেটাকে আমরা একটা চ্যালেঞ্জ মনে করছি। আমরাও তো ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাস করি।

জয়ের জন্য এ মুহূর্তে বিএনপির কী করা উচিত?

জহির উদ্দিন স্বপন: মূলত নতুন প্রজন্মকে বিএনপির বুঝতে হবে। তাদের মন বুঝে বিএনপির রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি করতে হবে। আমরা সে পথেই এগোচ্ছি। প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতির বদলে নতুন প্রজন্ম যে ধরনের সংস্কৃতির জন্য মনোজগত তৈরি করেছে, সে অনুযায়ী আমাদেরও পরিবর্তন হতে হবে। পুরোনো দল হিসেবে বিএনপিকে পুরোনো সংস্কৃতি ফেলে দিয়ে এই নতুন সংস্কৃতিকে চিনতে, বুঝতে হবে, এর সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হবে। তাহলেই কেবল আমরা নতুন প্রজন্মের কাছে যেতে পারব। আমাদের নেতা তারেক রহমান এ ব্যাপারে অত্যন্ত সজাগ।

সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

জহির উদ্দিন স্বপন: আপনাকে ও কালবেলাকে ধন্যবাদ। পাঠককে কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা জানাই। পাশাপাশি গৌরনদী-আগৈলঝড়াবাসীকে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য আহ্বান জানাই। সূত্র: কালবেলা

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com