অন্য ভাষায় :
সোমবার, ০৬:০৯ অপরাহ্ন, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :
মানব সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সেবা প্রদানকারী সংবাদ তথ্য প্রতিষ্ঠান।
শিরোনাম :
বিয়েতে কোনো কমতি থাকলে ক্ষমা করে দেবেন: মুকেশ আম্বানি আত্মস্বীকৃত রাজাকারদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে ছাত্রলীগ: ওবায়দুল কাদের রায়গঞ্জে আসামিকে ধরতে নদীতে ঝাঁপ, পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু ৩৪ বছর আগে ফিরতে পারলে কোটা আন্দোলনে অংশ নিতাম : রিজভী আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে শক্ত হাতে দমন : ডিএমপি কমিশনার আসামি ধরতে নদীতে ঝাপ, প্রাণ গেল এসআইয়ের গাজায় গণহত্যার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়া উচিত : প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণাঞ্চলে নৌকা তৈরি করে ফিরেছে সচ্ছলতা স্বামীর ভিডা গ্যাছে বছর পাঁচেক আগে, এহন গেল বাপের ভিডা রোকেয়া হলের শিক্ষার্থীরা কিভাবে নিজেদের রাজাকার বলতে পারে, প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের খ্যাতি লেখকদের জন্য কতটা জরুরি

অনলাইন ডেস্কঃ
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৩
  • ৯৫ বার পঠিত

দুনিয়া এখন ডিজিটালনির্ভর। লেখকেরাও সক্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। কিন্তু লেখকদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের খ্যাতি কতটা জরুরি, তা নিয়ে রয়েছে বিস্তর তর্কবিতর্ক।

রুপি কাউর ও কবিতার ডিজিটাল বাণিজ্য
কানাডাপ্রবাসী ভারতীয় লেখক রুপি কাউরকে বলা হয় ‘ইনস্টাপোয়েট্রি’র পথপ্রদর্শক। বিখ্যাত এই কবির মিল্ক অ্যান্ড হানি কবিতা সংকলনটি নিউইয়র্ক টাইমস-এর বেস্টসেলারের তালিকায় ছিল টানা ৭৭ সপ্তাহ। ২৫টি ভাষায় অনূদিত হয়ে প্রায় আড়াই মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছে বইটি। তবে এ বই বিখ্যাত হয়ে ওঠার পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রুপি কাউরের সক্রিয়তার ইতিহাসটুকু জানতে হবে। বুঝতে হবে কেন পাঠকের সঙ্গে এই সময়ের লেখক-কবিদের সরাসরি আন্তর্জালিক যোগাযোগ জরুরি হয়ে উঠেছে।

মিল্ক অ্যান্ড হানি নামের কবিতা সংকলনটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০১৪ সালে লেখকের নিজস্ব খরচে আমাজনের ‘ক্রিয়েট স্পেস’-এ। পরের বছর ২০১৫ সালে রুপি কাউর তাঁর ইনস্টাগ্রামে নিজের কিছু ছবি প্রকাশ করেন। ছবিগুলোর থিম ছিল নারীদের মেনস্ট্রুয়েশন বিষয়ে যেসব ট্যাবু আছে, তাকে কেন্দ্র করে। মানে, ছবিগুলোর মাধ্যমে ওই ট্যাবুগুলো ভাঙতে চেয়েছেন রুপি কাউর। ছবিগুলোয় তাঁর পোশাক ও বিছানার চাদরে রজঃস্রাবের রক্তের দাগ লাগানো ছিল। ইনস্ট্রাগ্রামে তাঁর এই ছবি ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। ছবিগুলো দু-দুবার সাইট থেকে সরিয়ে নেয় ইনস্টাগ্রাম। রুপি ইনস্টাগ্রাম কর্তৃপক্ষকে ‘মিসোজিনিস্ট’ অভিযুক্ত করে কঠোর সমালোচনা করেন। নারীবাদীরা তাঁর পক্ষে দাঁড়ান। ঘটনাটি নিয়ে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় অন্তর্জালের দুনিয়া। পরবর্তীকালে ইনস্টাগ্রাম কর্তৃপক্ষ দুঃখ প্রকাশ করে ছবিগুলো আবার ফিরিয়ে দেয়। এ ঘটনা রুপি কাউরকে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা এনে দেয়। কানাডার এন্ড্রিউজ ম্যাকমিল পাবলিশিং হাউস তাঁর বইয়ের পুনর্মুদ্রণ করে। এবার ব্লক বাস্টার জনপ্রিয়তা অর্জন করে এই বই। রুপি কাউর হয়ে ওঠেন বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় কবিদের একজন।

নিঃসন্দেহে ডিজিটাল দুনিয়া ও ইন্টারনেট জগৎ রুপি কাউরকে এ খ্যাতি এনে দিতে সাহায্য করেছে। তাঁর প্রকাশক, এএমপির কর্ণধার কার্স্টি মেলভিল নিজেই স্বীকার করেছেন, রুপির এই জনপ্রিয়তার মূল কারণ পাঠকদের সঙ্গে তাঁর আন্তর্জালিক যোগাযোগ। ইনস্টাগ্রামে তাঁর লাখ লাখ ফলোয়ার রয়েছে। মাত্র ২২ বছর বয়সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সামলানোর জন্য তিনি সাতজনের একটি দলকে নিয়োগ দিয়েছেন। পাঠকদের সামনে নিজের কবিতা নিয়ে সদাই হাজির থাকেন এই তরুণ কবি। কখনো কবিতা পোস্ট করেন, কখনো ছবি, কখনো নিজের কবিতা পাঠ করেন দর্শকদের সামনে। রুপির কল্যাণে কবিতার নতুন এক প্রকাশভঙ্গিও পাওয়া গেছে—পারফর্মিং পোয়েট্রি। মানে ইনস্টাগ্রামে রুপি কবিতা শুধু লেখেন না, পারফর্মও করেন।

পিছিয়ে নেই বাংলাদেশের লেখকেরাও
বাংলাদেশে কবি-লেখকদের মধ্যেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের প্রবণতা দিনকে দিন বাড়ছে। হুমায়ূন আহমেদ এখন বেঁচে থাকলে তাঁর ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার কত হতো, তা আন্দাজ করা মুশকিল। তবে হালের জনপ্রিয় লেখক সাদাত হোসাইনের ফেসবুক ফলোয়ারের সংখ্যা এ মুহূর্তে তিন লাখের একটু ওপরে। কবি ইমতিয়াজ মাহমুদও ফেসবুকে বেশ জনপ্রিয়, দেড় লাখের বেশি অনুসারী রয়েছে তাঁর। এ ছাড়া নির্মলেন্দু গুণ, হেলাল হাফিজের মতো জনপ্রিয় কবিরাও এখন ফেসবুকে খুব সক্রিয়। নির্মলেন্দু গুণের ফেসবুক অনুসারী ৫৬ হাজার হলেও তাঁকে নিয়ে রয়েছে বেশ কিছু ফেসবুক পেজ ও ফ্যান ক্লাব। এগুলোর অনুসারীর সংখ্যা অবশ্য অনেক। কবিতা-গল্প লেখার কিছু ফেসবুক গ্রুপও সক্রিয় আছে বাংলাদেশে। ‘পেন্সিল’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে লেখালেখি করে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন অনেকেই। চার লাখের বেশি সদস্য আছে এই গ্রুপে।

এর উল্টো চিত্রও আছে। আমাদের দেশের অনেক জনপ্রিয় লেখকেরই কোনো ফেসবুক অ্যাকাউন্টই নেই। যেমন মুহম্মদ জাফর ইকবাল। এ ছাড়া অনেকের ফেসবুক অ্যাকউন্ট থাকলেও এ মাধ্যমে অতটা সক্রিয় নন তাঁরা। অবশ্য এটা ঠিক যে এসব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আমাদের দেশের লেখকদেরও তারকাখ্যাতি অর্জনে সাহায্য করছে।

লেখকের জন্য তারকাখ্যাতি কি জরুরি
এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এসে যায়, লেখক-কবিদের কেন সেলিব্রিটি হতে হবে? তাঁরা তো আর অভিনেতা, ক্রীড়াবিদ বা পারফরমার নন। একজন তারকা ব্যক্তির সঙ্গে একজন লেখকের কিছু মৌলিক পার্থক্য আছে।

গেল বছর ম্যাগি ও ফেরেল তাঁর উপন্যাস হ্যামনেট-এর জন্য পেয়েছেন উইমেনস প্রাইজ ফর ফিকশন পুরস্কার। ম্যাগি ও ফেরেলকে বলা হয় লেখকদের লেখক। কারণ, কেবল পাঠক নয়, লেখকদের কাছেও তিনি খুবই সমাদৃত আর জনপ্রিয়। তবে দুঃখের বিষয় হলো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে যে ঝড় উঠেছিল, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানতে পারেননি। কারণ, তিনি কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন না। শুধু ম্যাগি ও ফেরেল নন, লেখালেখির ব্যাপারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমবিমুখ হারুকি মুরাকামি, জাদি স্মিথ, মাইকেল লুইসের মতো বিখ্যাত ও সফল লেখকেরাও। সালমান রুশদি বা মুরাকামির নামে কিছু ফ্যান পেজ ও ফেসবুক অ্যাকাউন্ট রয়েছে বটে, কিন্তু এগুলো চালান তাঁদের প্রকাশক ও ভক্তরা।

মুরাকামি কেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন না, সে বিষয়ে একবার প্রশ্ন করা হয়েছিল তাঁকে। তিনি একটু ঘুরিয়ে যে জবাব দিয়েছিলেন তা হলো, ভালো বই পড়া বা ভালো গান শোনার মতো কাজগুলো আপনার জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ জিনিস।

থমাস উমস্টাড একজন বিখ্যাত বই বিপণণ বিশেষজ্ঞ। কাজ করেন পৃথিবীর বিখ্যাত সব প্রকাশনা সংস্থা আর লেখকদের সঙ্গে। সম্প্রতি তিনি একটি প্রবন্ধ লিখেছেন, যার নাম ‘কেন লেখকদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জরুরি নয়?’ এখানে তিনি লিখেছেন, ‘যেহেতু আমি বিশ্বসেরা ও বেস্টসেলার লেখকদের সঙ্গে কাজ করেছি, তাই আমি জানি যে যিনি যত বড় আর ভালো লেখক, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আর ডিজিটাল দুনিয়ায় তত কম সময় কাটান! আপনাকে একজন সফল লেখক হতে হলে আসলে যা লাগবে, তা হলো ভালো লেখার ক্ষমতা।’

উদাহরণ হিসেবে এতে থমাস উমস্টাড ইন্টারনেট সেলিব্রিটি পপ তারকা বিলি আইলিসের প্রসঙ্গ এনেছেন। এই তারকার টু্ইটার অনুসারীর সংখ্যা সাড়ে ৬০ লাখ, ইনস্টাগ্রাম অনুসারী ৯ কোটি ৮০ লাখ। প্রকাশক তাঁকে নিয়ে মিলিয়ন ডলার বাজি রেখেছিলেন। কিন্তু আদতে তাঁর বই বিক্রি হয়েছে ৬০ হাজারের মতো, যা তাঁর মোট অনুসারীর ১ শতাংশের কম।

গেল বছর জনপ্রিয় লেখক চেলসি ব্যানিংয়ের বই প্রকাশের দিনে তিনি একটি বুক সাইনিং অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই ‘গোয়িং’ লিখে অনুষ্ঠানটিতে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলেও শেষ পর্যন্ত হাজির হন মোটে দুজন। তার মানে ভার্চ্যুয়াল দুনিয়া আর বাস্তবতার মাঝে আছে বিস্তর ফারাক।

কেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি সময় দেওয়া উচিত নয়
বিখ্যাত টিসিকে পাবলিশার্সের কর্ণধার টম করসন নোওলস নিজেও একজন বেস্টসেলার লেখক। তাঁর ভাষ্য হলো, একজন লেখকের অতিরিক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার না করার পক্ষে অন্তত তিনটি যৌক্তিক কারণ আছে।

এক. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আপনাকে যা দেখায়, তা আসল চিত্র নয়। আপনার হাজার হাজার অনুসারী মানেই যে তাঁরা সবাই আপনাকে অনুসরণ করছে বা আপনার পোস্ট নিয়মিত দেখছে, তা-ও নয়। একে বলা হয় অর্গানিক রিচ। ২০১৭ সালে ফেসবুক তার অর্গানিক রিচ ২০ শতাংশে নামিয়ে আনে, মানে আপনার যদি ১০০ জন অনুসারী হন, তবে ২০ জন আপনার পোস্ট নিয়মিত দেখতে পান, বাকি ৮০ জনই পান না, যতক্ষণ না আপনি রিচ বাড়ানোর জন্য টাকা খরচ করছেন। বর্তমানে এই অর্গানিক রিচ ১ শতাংশে নেমে এসেছে। এ ছাড়া আপনার কবিতা বা গল্প যখন আপনি পোস্ট করছেন, ওই মুহূর্তেই আপনার অনুসারীদের আরও ১৫ হাজার স্টোরি, রিল বা পোস্ট দেখার সুযোগ রয়েছে। আপনাকে এই ১৫ হাজার প্রতিদ্বন্দীর সঙ্গে লড়তে হবে নিজের কবিতা পড়ানোর জন্য।

দুই. গবেষণা বলছে, মার্কিনরা দৈনিক গড়ে আড়াই ঘণ্টা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় নষ্ট করেন, যা বছরে ২০ সপ্তাহের সমান! এ সময় একজন লেখক যদি লেখার কাজে ব্যয় করতেন, তবে বছরে অন্তত আরও তিনটি উপন্যাস লিখে ফেলতে পারতেন। এটি সময়ের এক বিপুল অপচয়।

তিন. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে কেউ আপনার লেখার বিষয়ে যেকোনো মতামত সরাসরি দিতে পারে। বিষয়টি আপনার স্বাধীন লেখকসত্তার জন্য ক্ষতিকর। আপনি যদি লেখার সময় সর্বদা পাঠকের প্রতিক্রিয়া বা অন্যরা কী ভাবল, তা নিয়ে মানসিক চাপে থাকেন, তবে কখনোই আপনার ‘নিজের’ লেখাটি লিখতে পারবেন না। আপনার সৃজনশীলতা তাতে ক্ষতিগ্রস্তই হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার না করার পক্ষে টম করসন নোওলস যে তিনটি যুক্তি দিয়েছেন, তার বিপক্ষেও অনেকে যুক্তি দিতে পারবেন। অনেক তর্কবিতর্ক আছে বিষয়টি নিয়ে। তবে কথা হলো, একজন লেখকের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ যে লেখা, তা নিয়ে কোনো বিতর্কের অবকাশ নেই। দিন শেষে একটা ভালো লেখাই তো পাঠককে স্পর্শ করে। সেলিব্রিটি লেখক হয়ে যদি কেউ দিন শেষে ভালো কিছু না লিখতে পারেন, তবে তাঁর অগুনতি অনুসারীরা তাঁকে কি বাঁচিয়ে রাখতে পারবেন? লেখককে বাঁচিয়ে রাখতে পারে কেবল তাঁর লেখাই।

কাকে বলে ‘ইনস্টাকবিতা’
রুপি কাউরদের মতো কবিদের হাত ধরে অভিধানে যোগ হয়েছে নতুন একটি শব্দ—‘ইনস্টাপোয়েট্রি’ বা ‘ইনস্টাকবিতা’। এ ধারার কবিতা কেবল অনলাইনে প্রকাশের জন্যই লেখা হয়ে থাকে। নাম ‘ইনস্টাকবিতা’ হলেও শুধু ইনস্টাগ্রামেই নয়, ফেসবুক, টিকটক বা টুইটার—যেকোনো অনলাইন মাধ্যমেই প্রকাশিত হতে পারে এগুলো। ‘ইনস্টাপোয়েট্রি’ সাহিত্যের এক নতুন ধারা হিসেবে দিনে দিনে জায়গা করে নিতে শুরু করেছে। ব্রাজিলের ভাষাবিদ ব্রুনা ওসাকি বলছেন, ‘ইনস্টাকবিতা’কে শুধু নতুন প্রকাশমাধ্যম হিসেবে দেখলে হবে না, বরং স্টাইল আর ফর্মের দিক দিয়েও এটি এক বিশেষ ধারা। গবেষক জুইউনহা নক্স পোয়েটিকস টুডেতে বিশ্লেষণধর্মী এক প্রবন্ধে লিখেছেন, কবিতাগুলোর ক্ষুদ্র আকার ও কনটেন্টের তীব্র গতি দৃশ্যত আবেদনময়ী।

‘ইনস্টাকবিতা’র পক্ষে-বিপক্ষে আছে নানা মত। হুমা কুরায়শি মনে করেন, সর্বগামী ও সর্বজনীন আবেদনের কারণে ‘ইনস্টাকবিতা’ সহজেই লাখো মানুষকে সংশ্লিষ্ট করতে পারে। অন্যদিকে ভিনু কাসপারের মতো বিশ্লেষকেরা বলছেন, কবিতার বাণিজ্যিকীকরণের ফল হলো ‘ইনস্টাকবিতা’। তাঁর মতে, এটি সত্যিকারের পাঠককে নয়, বরং হাজার হাজার অনুসারীর উদ্দেশে লিখিত হয়।

বর্তমানে রুপি কাউর ছাড়াও নিকিতা গিল, আমান্ডা লাভলেস, নাজওয়া জেবিয়ান, ল্যাং লিভ, সামান্থা হাটসন, উইনি নানতঙ্গো, ফ্রেড উইলিয়ামস, ট্রাইভ স্কাউগ প্রমুখ ইনস্টাকবি নিয়মিত ডিজিটাল দুনিয়ায় লেখালেখি করছেন এবং এ মাধ্যমেই খ্যাতি অর্জন করেছেন।

ভারতীয় বেস্টসেলার লেখক চেতন ভগত সামাজিকমাধ্যমে সব সময় সক্রিয়। ৫৫ লাখ অনুসারী নিয়ে বর্তমানে তিনি ভারতের সবচেয়ে ইন্টারনেটে অনুসৃত লেখক। আর দুর্জয় দত্ত তো আরও এক কাঠি এগিয়ে। লেখক হলেও তাঁর গালের টোল আর মিষ্টি হাসির নানা ভঙ্গিমার ছবি ভারতীয় তরুণীদের কাছে তাঁকে প্রায় শাহরুখ খানের মতোই জনপ্রিয় করে তুলছে।

তানজিনা হোসেন
চিকিৎসক ও কল্পবিজ্ঞান লেখক

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SomoyerKonthodhoni
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com